তিন মার্কিনির একজন গণমাধ্যমকে শত্রু মনে করে : ট্রাম্প

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:০২
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই গণমাধ্যমের প্রতি বিষোদগার করে আসছেন। এবার তিনি মিডিয়ার সমালোচনা করার জন্য টেনে আনলেন মার্কিন জনগণকে। তিনি বলেছেন, মিডিয়াকে শত্রু আমি একা মনে করি না। আমাদের দেশের প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন গণমাধ্যমকে ‘জনগণের শত্রু’ হিসেবে দেখে। বুধবার ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান পার্টির এক প্রচারণা সমাবেশে গণমাধ্যমের সমালোচনা করতে গিয়ে এসব কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
 
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম এখন যা খুশি তাই লিখে চলেছে। তারা জনগণের কথা শুনতে চায় না। আমাদেরকে জোর করে ঘৃণা, গোঁড়ামি, বর্ণবাদ, বৈষম্য ও পক্ষপাতিত্বের মতো কুৎসিত সব দায় দেওয়া হয়। কিন্তু তারা আপনার কথায় কান দেবে না। তারা যেটা সঠিক মনে করবে, ডাহা মিথ্যা বলেও সেটাই তাদের কাছে ‘খবর’। এ কারণেই এ দেশের ৩৩ শতাংশ মানুষ মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনকারীদের জনগণের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে। ট্রাম্প এর আগেও মার্কিন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে একের পর এক সমালোচনার তীর ছুঁড়েছেন। তার দাবি, গণমাধ্যম তার প্রশাসনের কাজকর্মকে ভুলভাবে হাজির করছে।
 
কয়েক মাস আগে সাংবাদিকদের ‘জনগণের শত্রু’ না বলতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রকাশক। এ ধরনের কথা গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ‘সহিংসতার পথ খুলে’ দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি। এরপর বহু মিডিয়া সম্পাদকীয় প্রকাশ করে ট্রাম্পের মিডিয়া বিদ্বেষের প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু তারপরেও তিনি সমালোচনা বন্ধ করেননি।
 
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাহী আদেশবলে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়ম বাতিলের পরিকল্পনা জানানোর পর এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার পল রায়ান। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়ে সেটা প্রত্যাখ্যান করেছেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ রিপাবলিকান। তিনি বলেছেন, নির্বাহী আদেশ দিয়ে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া যাবে না। কনজারভেটিভ দল হিসেবে আমরা সংবিধানে বিশ্বাসী। তার এই বক্তব্যের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যা বলেছেন বুঝে শুনেই বলেছেন। রায়ান যেন না বুঝে কথা বলতে না যান।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ