খাশোগি বিপজ্জনক ছিলো: সৌদি যুবরাজ

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:৫১
নিহত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি বিপজ্জনক ইসলামি কট্টরপন্থী ছিলেন। খাশোগিকে নিয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে ফোনালাপে এমন মন্তব্য করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।
 
ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়, সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারড কুশনার ও দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের সঙ্গে ফোনালাপ করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
 
ফোনে তিনি বলেন, খাশোগি ইসলাম বিরোধী ছিলেন। সৌদি আরব বিরোধী ইসলামি সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য। এছাড়া সৌদি যুবরাজ ফোনে যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরবের বন্ধুত্ব আর জোরদারের উপর কথা বলেন।
 
অন্যদিকে খাশোগির পরিবারের তরফ থেকে সৌদি যুবরাজের এমন বক্তব্যকে হাস্যকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। পরিবারটি সংবাদমাধ্যমে জানায়, খাশোগি কোন ভাবেই বিপজ্জনক ছিল না। এছাড়া তিনি (খাশোগি) মুসলিম ব্রাদারহুডের ও সদস্য কখনোই ছিল না। পরিবারটি আরো দাবি জানায়, বেঁচে থাকা অবস্থায় খাশোগি নিজে এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে এসেছে।
 
এই মুহূর্তে সৌদি আরব ছেড়ে নিহত খাশোগির পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে।
 
উল্লেখ্য, তুর্কি বাগদত্তা হেতিস চেঙ্গিসের সঙ্গে বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র আনতে গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর খুন হন ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার কলাম লেখক ও স্বেচ্ছা-নির্বাসিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি। শুরুতে অস্বীকার করলেও ১৯ অক্টোবর সৌদি জানায়,তুরস্কের ইস্তাম্বুল কসন্যুলেটে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে খাশোগির মৃত্যু হয়। এর দুদিন পরই খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে বলেও স্বীকার করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
 
সৌদি আরবের দাবি,এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গোয়েন্দা সংস্থার উপ-প্রধান এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দেহরক্ষিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোট ১৮ জনকে।
 
তবে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বলছে,খাশোগির খুনের পেছনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই কলকাঠি নেড়েছেন।
 
ইত্তেফাক/এসআর