জাতীয় চার নেতাকে বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে গড়েছিলেন: মেয়র লিটন

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৮, ২১:২৮
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
 
শনিবার বিকেলে রাজশাহী টিটি কলেজ মিলনায়তনে মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদ আয়োজিত শোকাবহ জেল হত্যা দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
 
জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনার সুযোগ্য সন্তান ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি লিটন বলেন, ‘আমার বাবা শহীদ কামারুজ্জামানসহ জাতীয় চার নেতাকে বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে গড়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় চার নেতাকে গড়েছিলেন বলেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশমতো জাতীয় চার নেতা মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার গুরু দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আমরা জাতীয় চার নেতার ঋণ পরিশোধ করতে পারব না। ঋণ পরিশোধ করতেও চাই না। আমরা যাতে বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতার আদর্শ অনুসরণ করে চলতে পারি। আমরা যেন তাদের সেই আদর্শ থেকে পথভ্রষ্ট না হই। আজকের দিনে এটিই আমার কামনা।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় চার নেতা ছিলেন অতুলনীয়। তাঁরা ছিলেন বাঙালি জাতির সর্বকালের সর্বশেষ্ঠ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বঙ্গবন্ধুর প্রতি ছিলো তাদের অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। দেশের জন্য তাঁরা ছিলেন অবিচল। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি তাঁদের ভালোবাসার তুলনা নেই।’
 
মেয়র লিটন বলেন, ‘পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে এসে আমরা বাংলাদেশ হয়েছি, এটি পাকিস্তান মেনে নিতে পারেনি, এখনও পারছে না। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই আমাদের স্বাধীনতার অর্জন ম্লান করার ষড়যন্ত্র হয়েছে। তার প্রমাণ পাওয়া যায় সপরিবারে বঙ্গবন্ধু এবং কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার মাধ্যমে। সেই অপশক্তির অপতৎপরতা থেমে নেই। সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
 
প্রধান আলোচক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘জাতীয় চার নেতার মধ্যে পার্থক্য বের করা কঠিন। কারণ তারা সবাই অসাধারণ-অতুলনীয়। বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত বিশ্বস্ত, ঘনিষ্ঠ ও ভালোবাসার পাত্র। তারা যে বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসার পাত্র ছিলেন, তা জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে কখনো বেঈমানি করেননি। কিন্তু ১৯৭১ যারা পরাজিত হয়েছিলো, তারা ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মুছে ফেলতে চেয়েছিল। খুনিদের সেই অপচেষ্টা সফল হয়নি। এখন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সবার ভরসা হয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন। তবে আমাদের সেই অপশক্তির ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।’
 
রাজশাহী মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নূরল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কবি আরিফুল হক কুমারের পরিচালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
 
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে মোমবাতি প্রজ্বলন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং জাতীয় চার নেতার জীবনী পাঠ করা হয়।
 
ইত্তেফাক/বিএএফ