বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ‘অনুগ্রহ করে এমন কাজ করুন যাতে করে অন্যরা আপনাদের দেখে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে শেখে, আরও কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হয় এবং আরও বড় হয়ে ওঠে।’
রবিবার সাভারে বিপিএটিসি-এ ১২২-তম অ্যাডভান্সড কোর্স ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এসিএডি) এ অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ নিবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন। তার নিবন্ধের শিরোনাম ছিলো ‘কার্যকর জন-ব্যবস্থাপনার জন্য নেতৃত্ব’।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলোর ধরণ ক্রমাগত বদলাচ্ছে এবং ফল স্বরূপ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের চাহিদা ও চ্যালেঞ্জগুলোও বাড়ছে এবং ক্রমে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আজকের নেতৃবৃন্দকে এ কথা ভুলে গেলে চলবে না প্রতিষ্ঠানগুলো এখন অনেক বেশি দলগত কাজের উপর নির্ভরশীল ও প্রযুক্তিভিত্তিক হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত কর্মী বাহিনীতেও কয়েক প্রজন্মের কর্মীরা যুক্ত থাকছেন এবং কর্মীদের সাংস্কৃতিক ও আর্থসামাজিক অবস্থাও আগের তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়। আজকের অনিশ্চয়তায় পৃথিবীতে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এবং ‘কাউকে পেছনে ফেলে না এগুলো’র নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই নায়কোচিত ভূমিকা নিতে হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বৈষম্য বৃদ্ধি, রক্ষণশীল বাণিজ্য নীতির বিস্তার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বহুবিধ চ্যালেঞ্জ উপস্থিত থাকার পরও বাংলাদেশ এখন দুই অঙ্কের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের বড় স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে নেতৃবৃন্দকে শুধু ‘বিদ্যমান অবস্থা অব্যাহত রাখা’য় সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, বরং সহকর্মীদের মধ্যে পরিবর্তনকে গ্রহণ করার স্পৃহা এবং সাফল্যের ক্ষুধা সৃষ্টি করতে হবে। জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে সকল সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ায় সর্বস্ব বিনিয়োগ করতে হবে।
ড. আতিউর নিজে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় প্রতিষ্ঠানটির নীতি ও অনুশীলনের জায়গায় যে সমস্ত পরিবর্তন সাধন করেছিলেন এবং এর ফলে পুরো আর্থিক সেবা খাতে যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছিলো সে অভিজ্ঞতাগুলো তুলে ধরেন। এ সময়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি মনোযোগের ভিত্তিতে আর্থিক সেবা খাতে ডিজিটাইজেশন, ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণ, স্বচ্ছতা, মানব সম্পদকে মানবিক করে গড়ে তোলা, জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণ, সামাজিক দায়বদ্ধ সংগঠনের সাথে অংশীদারিত্ব, এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো।
মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল আর্থিক সেবার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে ড. আতিউর বলেন, এসবের ফলে এক দিকে আর্থিক সেবা জনগণের দোর গোড়ায় পৌঁছেছে এবং অন্যদিকে এই সেবা খাতের ব্যাপক গণতন্ত্রায়নও ঘটেছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ
