গাড়ি চাপায় শ্রমিক নিহতের জেরে ডিইপিজেড এলাকা রণক্ষেত্র

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:৫০
সাভার উপজেলার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার ডিইপিজেড নতুন জোনে গাড়ি চাপায় এক শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গোটা ডিইপিজেড এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা ১০টি কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকে আগুন দিয়েছে। এ সময় শ্রমিকরা নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের ডিইপিজেডের সামনে চলাচলরত কমপক্ষে ১৫টি বাস- ট্রাক ভাংচুর করেছে। 
 
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে গেলে কয়েক হাজার শ্রমিকের বাঁধায় তারা প্রধান গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে পারেনি। রাত সাড়ে আটটার পর থেকে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে।  নিহত শ্রমিকের নাম মোঃ লিসন (২৬)। 
 
জানা গেছে, গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আশুলিয়ার ডিইপিজেড পূর্ব জোনের শান্তা এ্যাপারেলস পোশাক কারখানাটি ছুটি হলে শ্রমিকরা বাড়ি ফেরার পথে শান্তা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কোয়ালিটি পদে কর্মরত লিসন ও তার সহধর্মীনিকে একটি শ্রমিক পরিবহন বাস চাপা দেয়। এতে লিসন ঘটনাস্থলেই নিহত হন ও তার স্ত্রী নিশিতা আহত হন। তাদের দুজনের বিস্তারিত পরিচয় না পাওয়া গেলেও নিহত লিসন নড়াইল জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। 
 
এদিকে শ্রমিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনার পরই কয়েক হাজার শ্রমিক প্রধান গেট বন্ধ করে দিয়ে লোডকৃত গাড়ি, কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক ও শ্রমিক পরিবহন বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে প্রায় ৭টি গাড়ি পুড়তে দেখা যায়। এ সময় বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা ৩টি মাল বোঝাই কাভার্ড ভ্যানেও আগুন ধরিয়ে দেয়।
 
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রনের জন্য ঘটনাস্থলে যেতে চাইলে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা তাদের গাড়িও ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। শ্রমিকদের হামলা, ভাংচুর ও ইট পাটকেল নিক্ষেপে পথচারী, শ্রমিক ও পুলিশসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে।  
 
ঘটনার পর থেকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সড়কটিতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় ঘরমুখো লোকজন পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিয়ে শ্রমিকরা রাস্তা থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। তবে বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। 
 
আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রিজাউল হক দীপু শ্রমিক নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গাড়ি চাপায় পোশাক শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা হামলা চালিয়ে ও আগুন দিয়ে অসংখ্য গাড়ি ভাংচুর করেছে। শ্রমিকদের নিবৃত্ত করতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করতে গেলে শ্রমিকদের রোষানলে পড়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছে। 
 
শিল্প পুলিশ-১ এর পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু