বেতাগীর জলিশা বাজারের ব্রিজ যেন মরণ ফাঁদ

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:৩৯
বেতাগীর হোসনাবাদ ইউনিয়নের জলিশা বাজার ও মির্জাগঞ্জ উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের সংযোগ স্থানে বেড়েরধন নদীর উপর ব্রিজটির উপরের পাটাতন ধসে পড়ায় মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ওই এলাকার প্রায় ১০ হাজার পরিবারকে।
 
জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়।
 
সরেজমিনে জানা গেছে, ব্রিজের দুই পাশ ভেঙে গেছে। উপরের সিমেন্টের তৈরি পাটাতন ধসে পড়েছে। ভাঙা বিধ্বস্ত কয়েকটি স্পাউনডে  মরিচা ধরে লোহার এঙ্গেলের উপর ঝুলে আছে। ওই এলাকার রাস্তা দিয়ে চলাচলের মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা, ছোট যাত্রী চলাচলের মাহিন্দ্র ও টেম্পু চলাচল বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবত্ এ অবস্থায় রয়েছে। অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেল পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন চালকরা। এক বছর আগে স্থানীয় আবদুর রউফ তার নিজ অর্থায়নে কাঠের তক্তা কিনে সাময়িকভাবে পাটাতন মেরামত করে দেন। কিন্তু সেটিও এখন ভেঙে গেছে। যে কোনো সময় ব্রিজটি ভেঙে নানা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
 
স্থানীয় শফিকুল ইসলাম ইরান জানান, প্রতিদিন ছোট ছোট বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন থাকতে হয় এবং স্কুল ছুটির সময় অভিভাবকরা ব্রিজের কাছে এসে বিকল্প ব্যবস্থায় নৌকায় বেড়েরধন নদী পার করেন বাচ্চাদের।
 
জলিশা বাজারের ফল ব্যবসায়ী মো. জসিম জানান, ব্রিজটি দিয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকায় বেশি টাকা খরচ করে মালামাল অন্য পথ দিয়ে অথবা নৌকায় নদী পাড় করতে হয়।
 
উপজেলার হোসনাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান ফোরকান বলেন, আমার ইউনিয়নের এটি সবচেয়ে ঝুঁকির্পূণ ব্রিজ। এটি জাইকা প্রকল্পের আওতাধীন করা হয়েছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই টেন্ডার হবে। টেন্ডার হলেই সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজ শুরু করা হবে।
 
বেতাগী উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্পের অর্থের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজীব আহসান বলেন, ব্রিজের এমন বেহাল অবস্থার কথা আমার জানা ছিল না। ব্রিজটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/নূহু