বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ৩ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

অবশেষে আলো জ্বললো মগবাজার ফ্লাইওভারে

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২০:০০

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে আলো জ্বললো মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারে। ঢাকা দক্ষিণ সিটির (ডিএনসিসি) আওতাধীন ৩.৩৪৫ কিমি অংশে বসানো হয়েছে ৪৯০টি স্মার্ট এলইডি বাতি। এতে খরচ হয়েছে ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

বুধবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল সংলগ্ন উড়ালসেতু অংশে ল্যাপটপে একটি ক্লিকের মাধ্যমে উড়ালসেতুটি আলোকিত করার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। 

স্মার্ট এলইডি বাতি উদ্বোধন পরবর্তী আয়োজনে মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, উড়ালসেতুটি করার সময় আলোকিত করা হয়নি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে, আমরা নিজ অর্থায়নে এই কাজটি করবো। সেই প্রেক্ষিতে আমরা মালিবাগ-মৌচাক উড়ালসেতুটিতে স্মার্ট এলইডি বাতি স্থাপনের মাধ্যমে আলোকিত করেছি। এতে আমাদের খরচ হয়েছে মাত্র ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। 

আলোকিত করার কার্যক্রমের উদ্বোধন। ছবি: ইত্তেফাক

তিনি আরও বলেন, এখানে বাতি না থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির ওপর বিভিন্ন রকমের দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে, অনেক অঘটন ঘটেছে। উড়ালসেতুটিতে অনেকের প্রাণহানিও ঘটেছে। তাই, ঢাকাবাসীর জন্য আমরা এই আলোকিতকরণ কাজটি সম্পন্ন করতে পারায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। 

এদিকে প্রায় আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর বছরখানেক আগে উত্তর সিটি করপোরেশন তাদের সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার অংশে সোডিয়াম বাতি স্থাপন করে, যাতে মিটি মিটি করে আলো জ্বলে। এরপর তারা সেখানে উজ্জ্বল আলোর এলইডি বাতি লাগানোর জন্য একটি প্রকল্প নিয়েছে। প্রকল্পটি গত ১ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ক্রয় সংক্রান্ত কমিটিতে অনুমোদন হয়েছে। এরপর এটি পরিকল্পনা কমিশনে যাবে বলে জানান ডিএনসিসির বিদ্যুৎ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম। 

২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয় মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার। প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় বহু আকাঙ্খিত এ ফ্লাইওভার। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করে। সব মিলিয়ে ৮ দশমিক ৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চার লেনের এ ফ্লাইওভারটি মোট তিনটি অংশ রয়েছে। একটি অংশে রয়েছে সাতরাস্তা-কাওরানবাজার-মগবাজার-হলি ফ্যামিলি পর্যন্ত, আরেকটি অংশ শান্তিনগর মৌচাক হয়ে মালিবাগ চৌধুরীপাড়া পর্যন্ত এবং শেষ অংশটি বাংলামোটর-মগবাজার হয়ে মৌচাক পর্যন্ত। 

মগবাজার ফ্লাইওভার। ছবি: ইত্তেফাক

ভারতের সিমপ্লেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও নাভানার যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান ‘সিমপ্লেক্স নাভানা জেভি’ এবং চীনা প্রতিষ্ঠান দ্য নাম্বার ফর মেটালার্জিক্যাল কনস্ট্রাকশন ওভারসিজ কোম্পানি (এমসিসিসি) ও তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড এর নির্মাণকাজ করে। উদ্বোধনের পর রাত হলেই আলো ঝলমল করত ফ্লাইওভারটি। কিন্তু এর কয়েকদিন না যেতেই পুরো ফ্লাইওভার জুড়ে অন্ধকার নেমে আসে। তিন দফা বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২ মার্চ তার চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে দীর্ঘদিন আর বিদ্যুতের তার স্থাপন করেনি সংশ্লিষ্টরা। এতে সন্ধ্যা হলেই ফ্লাইওভারটি ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢেকে থাকত। নিজস্ব লাইট দিয়ে চলাচল করত গাড়ি।

ইত্তেফাক/এনএ/এএএম