রাজশাহীর চারঘাট-বাঘা এলাকায় সাতশ কোটি টাকা ব্যায়ে নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ব্লক তৈরির কাজও প্রায় শেষ। তবে তা স্থাপন করার আগেই অবৈধভাবে বালু তোলার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ ভানুকর এলাকায় নদী তীরে দেখা গেছে, প্রতিবছর পদ্মা নদীর ভাঙনে বাঘা এলাকার বহু ঘরবাড়ি হুমকির মুখে পড়ে। বন্যাকবলিত হয় আরও অনেক মানুষ। রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের উদ্যোগে তার নির্বাচনি এলাকায় বাঁধ তৈরিতে ৭২৪ কোটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নদীখননের জন্য আরও ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর থেকে বাঘা উপজেলার গোকুলপুর ঘাট পর্যন্ত নদীর তীরে ১২ কিলোমিটার বাঁধ তৈরির কাজ শুরু করেন পাউবো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুর রহমান ও সোহেল নামের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি লোকজন নিয়ে নদীতে তিনটি ভেকু নামিয়ে বালু তুলে বিক্রি করছেন।
মীরগঞ্জ এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বলেন, ‘নদীতীর রক্ষায় ১০টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৭২৪ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। তারা ব্লক তৈরির পাশাপাশি নদীর পাড়ে স্লোপ (ঢাল তৈরি) করবেন এবং মাটি তোলা প্রয়োজন হলে তা এনে পাড় বাঁধাইয়ের কাজে লাগাবেন। অথচ প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক বালি উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। এর ফলে পাকা রাস্তা নষ্ট হচ্ছে, সঠিকভাবে নদীপাড় বাঁধাই করা হচ্ছে না।’
এ বিষয়ে খন্দকার কনস্ট্রাকশনের ম্যানেজার নুরুনবী বলেন, ‘নদীর পাড় থেকে ২৫ মিটার স্লোপ ও ৩৫ মিটার ডাম্পিং হবে। ডাম্পিংয়ের কিছু মাটি এনে পাড় বাঁধাই করা হবে। এ কাজগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করে থাকে। কিন্তু এখানে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের প্রভাব খাটিয়ে বালু তুলছেন।’
বালি উত্তোলনের অভিযোগের ব্যাপারে আব্দুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমি ভারত থেকে গরু আমদানির ব্যবসা করতাম। বর্তমানে করিডোর বন্ধ থাকায় কিছু লোক নিয়ে বালি তোলার কাজ করছি।’
বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ কমিটির খোদ সদস্য ও বাঘা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনিরুজ্জামানও এই কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘শুধু বালু তোলা নয়, ব্লক নির্মাণের কাজেও অনিয়ম হয়েছে। পাউবো কর্মকর্তাদের অভিযোগ করেও কাজ হয়নি।’ একই অভিযোগ করেছেন বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মেজাজুল ইসলাম মেরাজও।
এ বিষয়ে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী গোলাম মুর্তজা বলেন, ‘নদী থেকে বালি উত্তোলনের খবর পেয়ে বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়েছি। যারা বালু তুলছিলেন, তাদের নিষেধ করা হয়েছে। এরপরও তারা এই কাজ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
