সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই নদীতে নাব্য সংকটে সুলেমানপুর বাজার থেকে কানামইয়া বিল পর্যন্ত তীব্র নৌজটের সৃষ্টি হয়েছে।
এতে ৫ সহস্রাধিক নৌচালক, শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। মেঘালয় থেকে আমদানি করা পাথর, চুনাপাথরসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। এই পরিস্থিতিতে আমদানির গতিও হ্রাস পেয়েছে। সময়মত মালামাল সরবরাহ না করতে পারায় বিপাকে আছেন তারা। এতে ব্যবসায়ী ও নৌযানচালকরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা এসব পণ্য নিয়ে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম শুক্রবার ইত্তেফাককে বলেন, পটলাই নদীতে নৌযান আটকে থাকার কথা তিনি জেনেছেন। বিষয়টি সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে জামালগঞ্জের ভুক্তভোগী ইকবাল হোসেন জানান, বাল্কহেড দিয়ে পণ্য পরিবহন করে যেখানে তাদের ১৫-২০ হাজার টাকা লাভ হওয়ার কথা সেখানে ২০ হাজার টাকা বেশি লোকসান হচ্ছে। ক্ষেত্র বিশেষে আরও বেশি লোকসান হচ্ছে। জ্বালানী, নৌশ্রমিকদের মজুরি, ঘাটে বসে দিনের পর দিন খাওয়া দাওয়া বাবদ প্রচুর খরচ হয়।
আটকে পড়া বাল্কহেডের ওজন কমানোর জন্য মালামাল নামিয়ে ছোট ছোট নৌকায় উঠানো হয়। পরে কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকা থেকে ওই বাল্কহেডে আবার মালামাল বোঝাই দেওয়া হয়। এতে নৌজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পরিবহন খরচও পড়ে অত্যধিক। মাঝেমধ্যে চাঁদার বিনিময়ে সিরিয়াল ভঙ্গেরও অভিযোগ পাওয়া যায়।
তবে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির জানান, ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে এই নৌজট ছাড়াতে কাজ শুরু করা হয়েছে। দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। নৌজট নিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাটলাই নদীর সুলেমানপুর বাজার থেকে পাটাবুকা হয়ে কানামইয়া বিল পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকায় প্রতিবছর শীতকালে এভাবেই নৌজটের সৃষ্টি হয়। এই নদীপথে প্রতি বছর সীমান্তবর্তী বড়ছড়া, বাগলী, চাড়াগাঁও তিনটি শুল্ক স্টেশন হয়ে কোটি কোটি ঘনফুট কয়লা, চুনাপাথর সারাদেশে সরবরাহ হয়। মেঘালয় থেকে আমদানি করা এসব পণ্য এ রুটে পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম নদীপথ। কিন্তু নদীগুলোর নাব্য সংকটের কারণে প্রতি বছর এই মৌসুমে ব্যবসা-বাণিজ্যে ভাটা পড়ে।
