জয়পুরহাটে ভারি বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি 

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:৫৫

জেলায় মাঘের শেষে ভারি বৃষ্টিপাত ও ঝড় হাওয়ার কারণে শরিষা, আলু, পেঁয়াজ ও শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২ টার পর থেকে ভারি বৃষ্টি শুরু হয়ে শুক্রবার বেলা ১২ টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। জমিতে পানি জমে যাওয়ায় আলু চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এছাড়াও ঝড় হাওয়ার কারণে পাক ধরা সরিষার গাছ গুলো মাটিতে হেলে পড়েছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, আলু তোলার ভরা মৌসুম শুরু হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে এই ভারীবৃষ্টিতে মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন জেলার আলু চাষিরা। মাত্র ৩০ শতাংশ জমির আলু তোলা হলেও  ৭০ ভাগ আলু এখনও জমিতে রয়েছে।  আলু তোলার জন্য এখন কৃষকরা প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন ঠিক এ মূহুর্তে হঠাৎ করে ব্যাপক বৃষ্টিতে আলুর জমিতে পানি জমে যাওয়ায় মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন জেলার আলু চাষিরা। পানিতে ঢুবে থাকা আলু তোলার পর পচন ধরার সম্ভাবনা থাকে।

আলুর জমিতে জমে যাওয়া পানি দ্রুত বের করে দেওয়ার জন্য চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান, স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি  জানান, শুক্রবার রাত ২ টা থেকে সকাল ১০ টা পর্যন্ত গত ৮ ঘণ্টায় ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে জেলায়।  অসময়ে হঠাৎ বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকের আলু রক্ষায় ব্যাপক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষিবিভাগ ও কৃষকরা। আলুর জমি থেকে দ্রুত পানি বের করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে ঝড় হাওয়ার কারণে পাক ধরা সরিষার গাছ গুলো মাটিতে হেলে পড়েছে। এতে সরিষার ফলনে মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশংকা করছে কৃষি বিভাগ। জেলায় চলতি ২০২১-২০২২ রবি মৌসুমে  ১১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে এবার সরিষা চাষ হয়েছে। তবে হঠাৎ করে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে কাঁচা পাকা হওয়ায় এ গুলো তোলা সম্ভব নয়। যদিও আবহাওয়া ভাল থাকায় বাম্পার ফলনের আশা ছিল কৃষক ও কৃষি বিভাগের। 

এছাড়া জমিতে অতিরিক্ত পানির কারণে রোপা পেঁয়াজসহ শাক সবজিরও ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে ইটভাটায় থাকা কাঁচা ইট পানিতে নষ্ট হওয়ায় কারণে প্রায় ১৫ কোটি টাকার মতো ক্ষতির আশংকা করছেন ইট ভাটার মালিকরা। 

ইত্তেফাক/ আরাফাত