টানা বৃষ্টি ও কয়লার বাড়তি দাম

মির্জাপুরে ইটভাটা মালিকরা বিপাকে

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:১২

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অসময়ের টানা বৃষ্টিতে ৯০ ইটভাটায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ভাটামালিকরা এখন উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। অন্যদিকে কয়লার দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে তাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। ভরা মৌসুমেও কয়লার অভাবে ইট পোড়াতে না পেরে ভাটামালিকরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

উপজেলা ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এক দিকে কয়লার দাম টনপ্রতি ১৮-১৯ হাজার টাকা বৃদ্ধি এবং অসময়ে দফায় দফায় বৃষ্টিতে প্রস্তুতকৃত ইট নষ্ট হয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

জানা গেছে, উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে পরিবেশবান্ধব ৯০টি ইটভাটা রয়েছে। এসব ভাটায় সরকারি নিয়ম মেনেই কয়লা দিয়ে ইট প্রস্তুত করা হয়। এসব ইটভাটায় প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। 

গতকাল রবিবার উপজেলার বাইমহাটি, সোহাগপুড়া, গোড়াই, সৈয়দপুর, হাঁটুভাঙ্গা, নয়াপাড়া, তরফপুর, আজগানা ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টির ফলে প্রতিটি ইটভাটায় কাঁচা ইটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

কয়েক জন ভাটামালিক জানান, এক দিকে কয়লার দাম বৃদ্ধি ও চরম সংকট, অন্য দিকে ধার-দেনা করে ইট প্রস্ত্তত করা হলেও বৃষ্টির পানিতে লাখ লাখ ইট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এভাবে আর কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে তারা আর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন না। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

এদিকে তীব্র সংকট চলছে কয়লার। কয়লা মূলত ইন্দোনেশিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করতে হয়। এ বছর কয়লা আমদানি নিয়ে নানা সমস্যা হয়েছে। ৮ হাজার টাকার কয়লার দাম বেড়ে হয়েছে ২৩-২৪ হাজার টাকা।

ইটভাটার মালিক ইব্রাহিম মিয়া, শহিদ মিয়া ও আওলাদ হোসেন অভিযোগ করেন, উপজেলায় সরকারি বিধি অনুযায়ী পরিবেশবান্ধব ইটভাটায় উন্নত মানের ইট পোড়ানো হয়। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে একজন ইটভাটামালিক জীবনের কষ্টার্জিত সমস্ত অর্থ ও ব্যাংক ঋণ নিয়ে একটি ইটভাটা স্থাপন করলেও তাদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। গত বছর কয়লার দাম ছিল প্রতি টন ৯-১১ হাজার টাকা। চলতি বছর এক টন কয়লার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ২২ থেকে ২৪ হাজার টাকা। গত বছর ১ হাজার ইটের দাম ছিল ৬-৭ হাজার টাকা। কয়লাসহ জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এ বছর ১ হাজার ইটের নির্মাণ খরচ পড়বে ৮-৯ হাজার টাকা। 

ইত্তেফাক/ আরাফাত