পশ্চিম সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে অনুপ্রবেশ বাড়ছে 

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৭:০১

সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের আওতায় পুষ্পকাটি, নোটাবেঁকী, মান্দারবাড়িয়া, হলদীবুনিয়াসহ ১৯ খাল ও ত।সংলগ্ন অঞ্চলকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ম।স্য ও বন্য প্রাণীদের নিরাপদ প্রজনন এবং বিচরণের জন্য এসব এলাকায় জন সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে এই অভয়ারণ্যের নদনদীতে শতশত জেলে নির্বিঘ্নে মাছ ও কাঁকড়া ধরছে। মূল্যবান কাঠ পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জের জেলে সুধীর মণ্ডল জানান, তিন জন জেলে একটি ডিঙি নৌকা নিয়ে নিষিদ্ধ খালে মাছ ধরলে অনেক টাকার মাছ ধরা যায়। সেক্ষেত্রে মাথাপিছু দিতে হয় ১ হাজার টাকা। কালিঞ্চি গ্রামের অরবিন্দ, ৯ নম্বর সোরা গ্রামের সামছুর, ডুমুরিয়া গ্রামের নজরুল ও একই গ্রামের আমিনুর জানান, কাঁকড়া ধরা জেলেদের প্রতি গনে মাথাপিছু ৪ হাজার টাকা দিয়ে বনে যেতে হয়। আর চোরাই কাঠের নৌকা প্রতি ৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কাদের এই টাকা দিতে হয় সে প্রশ্ন করলে তারা নিশ্চুপ থাকেন।

মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওয়াসিম কুমার মৃধা বলেন, শ্যামনগরে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ৩০ হাজার জেলে আছে যারা সুন্দরবন ও তত্সংলগ্ন নদনদীর ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। সংশ্লিষ্টদের তুষ্ট করে জেলে সেজে আবার অনেকেই হরিণ শিকারের জন্য অভয়ারণ্যে প্রবেশ করে। তারা কখনো ফাঁদ পেতে আবার কখনো বন্দুক দিয়ে হরিণ শিকার করে। এলাকায় এসব হরিণের মাংস ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। সম্প্রতি কৈখালী বিসিজি স্টেশনের কোস্ট গার্ড সদস্যরা সুন্দরবন বাজারে অভিযান চালিয়ে সাত কেজি হরিণের মাংসসহ ২ জনকে আটক করে বন বিভাগের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

স্হানীয় সূত্র আরো জানা যায়, অভয়ারণ্যের মধ্যে সাধারণের প্রবেশের ফলে বনের মূল্যবান গাছ উজাড় হচ্ছে। আবার বন্যপ্রাণী, পাখ-পাখালি তাদের নিরাপদ স্হান থেকে বিতাড়িত হচ্ছে। অনেক সময় কিছু অসাধু জেলে ছোট বড় খালের মুখে জোয়ারের পানিতে বিষ ঢেলে দিচ্ছে। এই বিষমিশ্রিত পানি খাল দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ফলে সকল প্রজাতির মাছ যখন বিষের তেজে ছটফট করে, তখন সেই জেলেরা জাল দিয়ে মাছগুলোকে সহজে ধরে ফেলে।

শ্যামনগর থানার ওসি কাজী ওয়াহিদ মুর্শেদ বলেন, অবৈধভাবে সুন্দরবন থেকে যারা প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া ধরে নিয়ে আসছে তাদের ধরতে বন বিভাগ সহযোগিতা চাইলে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে। সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) এম এ হাসান বলেন, জেলেরা মাছের পাশ নিয়ে ভেতরে গিয়ে মাছ ধরছে নাকি কাঁকড়া ধরছে জানি না। তবে বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে জেলেদের সহায়তা করার অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্হা নেওয়া হবে। 

ইত্তেফাক/কেকে