অকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢল থেকে সিলেট অঞ্চলের প্রধান ফসল বোরো রক্ষায় সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার বিভিন্ন স্থানে ‘হাওর রক্ষা প্রকল্পে’র কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এই প্রকল্পের কাজ করছে। প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বাঁধ নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ ও হাওরে ক্লোজার নির্মাণ। এসব প্রকল্পে মোট প্রায় ১২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের মাধ্যমে এই বাঁধ রক্ষার কাজ চলছে। কিন্তু কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। প্রকল্পের মেয়াদ ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হলেও ৫০ শতাংশ কাজও সম্পন্ন হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবার প্রকল্প খাতে চার জেলার জন্য সরকার ১২৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু এই খাতের সমুদয় টাকা এখনো মাঠ পর্যায়ে এসে পৌঁছায়নি। সূত্র জানায় আগামী সপ্তাহেই সুনামগঞ্জ জেলার প্রকল্পে টাকার টান পড়বে।
গত সপ্তাহে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্ব রিজিওনের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) ড. মো. জিয়া উদ্দিন বেগ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম তাহিরপুরের শনির হাওরের ক্লোজারসহ বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। তারা দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে বলেন, এ বছর সুনামগঞ্জের ৩৬টি হাওর রক্ষা কাজ চলছে। ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৫২০ কিলোমিটার বাঁধের কাজ হবে। কাজের মধ্যে রয়েছে : বেড়িবাঁধ নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ ও ১৩০টি ক্লোজারের কাজ। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে বর্ষার শুরুতে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিজনিত বন্যা থেকে সুনামগঞ্জ জেলার বোরো ফসল রক্ষা পাবে। এরই মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় ৪০ ভাগ, হবিগঞ্জে ৩৫ ভাগ, সিলেটে ২৫ ভাগ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাওর রক্ষা প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এবার ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে সুনামগঞ্জ জেলার হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ হবে। এর মধ্যে মাত্র ৬৬ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। ৭২০টি পিআইসির মাধ্যমে কাজ চলছে। এবারও পিআইসি গঠনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়। ফলে কাজ দেরিতে শুরু হয়।
সুনামগঞ্জ হাওর ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রাজা সময়মতো প্রকল্পের কাজ শেষ না হলে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি বা ঢলে জেলার সমুদয় ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে কাজে গড়িমসি করে দিন পার করায় বাঁধ নির্মাণের কাজ সময়মতো সম্পন্ন হয় না। আর ঢল এলেই বাঁধ ভেঙে হাওরে ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। সুনামগঞ্জ জেলাটি মেঘালয়ের পাদদেশে অবস্থিত। সামান্য বৃষ্টি হলেই অত্যন্ত নিচু এই ভূমি ডুবে বাঁধ ভেঙে যায়। জেলাবাসীর সারা বছরের ‘খোরাকি’ বোরো ধান ভাসিয়ে নেয়।
কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে সিলেট বিভাগে মোট ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়। এর মধ্যে শুধু সুনামগঞ্জ জেলায়ই ২ লাখ ২২ হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়। হবিগঞ্জ জেলায় ১ লাখ ২২ হাজার ৩০০ হেক্টরে, সিলেটে ৮৩ হাজার ৭০০ হেক্টরে ও মৌলভীবাজার জেলায় ৫৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়।
