সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই নদীতে নাব্য সংকটের কারণে ঐ এলাকায় তীব্র নৌজটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে অন্তত ৫ সহস্রাধিক নৌচালক, শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ব্যবসায়ী ও নৌযানের চালকরা মারাত্মক ক্ষতির মুখেও পড়েছেন।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম শুক্রবার ইত্তেফাককে বলেন, পাটলাই নদীতে নৌযান আটকে থাকার কথা জেনেছি। বিষয়টি সরেজমিনে দেখে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে জামালগঞ্জের ভুক্তভোগী ইকবাল হোসেন বলেন, আধাঘণ্টার পথ এখন পাড়ি দিতে সময় লাগছে পক্ষকালের বেশি। বাল্কহেড দিয়ে পণ্য পরিবহন করে যেখানে তাদের লাভ হওয়ার কথা সেখানে লোকসান হচ্ছে। জ্বালানি, নৌশ্রমিকদের মজুরি, ঘাটে বসে দিনের পর দিন খাওয়াদাওয়া বাবদ প্রচুর খরচ হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। দেখা গেছে, আটকে পড়া বাল্কহেডের ওজন কমানোর জন্য মালামাল নামিয়ে ছোট ছোট ভাড়া নৌকায় ওঠানো হয়। পরে কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকা থেকে ঐ বাল্কহেডে আবার মালামাল ভরে দেওয়া হয়। জানা গেছে, পাটলাই নদীর সুলেমানপুর বাজার থেকে পাটাবুকা হয়ে কানামইয়া বিল প্রায় ৪ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি বছর শীতকালে এভাবেই নৌজটের সৃষ্টি হয়। এই নদীপথেই প্রতি বছর সীমান্তবর্তী বড়ছড়া, বাগলী, চাড়াগাঁও তিনটি শুল্ক স্টেশন হয়ে কোটি কোটি ঘনফুট কয়লা, চুনাপাথর সারা দেশে সরবরাহ হয়। মেঘালয় থেকে আমদানিকৃত এসব পণ্য এ রুটে পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম নদীপথ। কিন্তু নদীগুলোর নাব্য সংকটের কারণে প্রতি বছর এই মৌসুমে ব্যবসা-বাণিজ্যে ভাটা পড়ে।
নৌযানচালক জামিল মিয়া বলেন, ১০ দিন যাবত নৌজটে আটকা আছি। বর্ষাকালে এই এলাকাটি পাড়ি দিতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে। কিন্তু এখন কয়দিন যে লাগবে, তা বলা যাচ্ছে না। একইভাবে নৌযানচালক শফিকুল ইসলামও তার দুঃখের কথা বর্ণনা দিয়ে বলেন, দুই টাকা আয় করতে গিয়ে এখন চার টাকা ক্ষতি। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির বলেন, ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে এই নৌজট ছাড়াতে কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তিনি বলেন, নৌজট নিয়ে যাতে কোনো চাঁদাবাজি না হয়। অন্যথায় সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

