ভালোবাসা দিবসের ফুল বিক্রি কেমন

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৪, ০৪:০৫

আগামীকাল সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। প্রতিবারই বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় বিভিন্ন বয়সের মানুষ। এই দিনকে ঘিরে ফুলের চাহিদাও থাকে বেশি। বিশেষ করে ভালোবাসা দিবসের দিবসের আগে ফুল বিক্রির ধুম পড়ে। বিক্রেতারাও থাকেন বিক্রির আশায়। তবে করোনার কারণে জনজীবনে পরিবর্তন আসায় প্রভাব পড়েছে ফুল বিক্রিতেও।

পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগের ফুল বিক্রির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা গেছে। তবে এবার অন্যান্যবারের তুলনায় বিক্রি কম হচ্ছে। রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) শাহবাগের ফুল বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

এবার ফুলের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা কম। ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

বিক্রেতারা বলছেন, এবার পাইকারি বাজার থেকে ফুলের সরবরাহ কম। দামও খানিকটা বেশি। তাই বিক্রিও হচ্ছে কম। এছাড়া সাভারে ফুলের বাগানগুলোতে ছত্রাকের আক্রমণ হওয়ায় অনেক গোলাপ গাছ শুকিয়ে গেছে। ভালোবাসা দিবসের কয়েকদিন আগে এসে এমন ঘটনা ঘটায় তা প্রভাব ফেলেছে পাইকারি বাজারে।

সাভার উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের শ্যামপুর, মৈস্তাপাড়া, সাদুল্লাপুর, বাগ্নীবাড়ি, ভবানীপুর ও বিরুলিয়াসহ অন্তত দশটি গ্রাম গোলাপ চাষ হয়। এগুলো গোলাপগ্রাম নামে পরিচিত। এসব এলাকায় প্রায় ২৭৫ হেক্টর জমিতে গোলাপ চাষ করেন ১ হাজার ৫০০ কৃষক।

এবার ছত্রাকের আক্রমণে অনেক গোলাপ গাছের আগাগোড়াই কালো হয়ে গেছে। গাছ লাগিয়ে যথাযথভাবে চাষ করেও ফুলের দেখা পাননি কৃষকরা।

ক্রেতার অপেক্ষায় তৈরি করে রাখা হয়েছে গোলাপের তোড়া। ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শাহবাগ মোড়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, অন্যান্যবারের তুলনায় ক্রেতা কম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের আনাগোনাও নেই। এছাড়া চলমান বিধিনিষেধ ও অফিস-আদালত সীমিত পরিসরে চলায় ক্রেতাদের উপস্থিতিও কম।

অহনা ফুল কুটিরের এক ফুল বিক্রেতা বলেন, করোনার কারণে অনুষ্ঠান বা উৎসব উদযাপন কমে গেছে। আর দুই দিবস একসঙ্গে হলে বিক্রি কম হয়। আলাদাভাবে দুইদিনে দুই দিবস পালন করা হলে বিক্রি বাড়ে।

ক্রেতাদের বিভিন্নধরনের ফুল দেখাচ্ছেন এক বিক্রেতা। ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

ফুলের দাম সম্পর্কে জানা যায়, এবার রজনীগন্ধা প্রতি স্টিক ৩০ টাকা, লাল গোলাপ আকারভেদে ৫০ ও ৬০ টাকা, মাথায় পরার ফুলের রিং ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েকজন ক্রেতা বলেন, ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে প্রিয়জনের জন্য ফুল কিনতে এসেছেন তারা। তবে এবার দাম অনেক বেশি।

ফুলতলা ফ্লাওয়ার শপের সত্ত্বাধিকারী মো. মেরিন শেখ বলেন, করোনার কারণে ফুল বিক্রিতে ভাটা পড়েছে। এবার ফুলের সরবরাহ কম হওয়ায় দামও বেড়েছে। দাম বাড়ায় অনেকেই ফুল না কিনে চলে যাচ্ছেন।

তবে আনিকা পুষ্প বিতানের সত্ত্বাধিকারী ও ফুল বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা আশা করছি সন্ধ্যার পর বিক্রি বাড়বে। সোমবার একইদিনে ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন হওয়ায় আমরা আশাবাদী। আশা করছি কাল সকাল থেকেই ভালো বিক্রি হবে।

ইত্তেফাক/এসটিএম