ফেব্রুয়ারি মাসের সঙ্গে ফাল্গুন মাসের একটা গভীর সম্পর্ক আছে। সম্পর্কটা ভালোবাসার। কীরকম? সেটা পরে বলি। ফাল্গুন মাসে প্রকৃতিতে একটা অদ্ভুত হাওয়া বয়। কোনো কোনো উদাস দুপুরবেলা সেই হাওয়াটা অনুভব করা যায়। বুকের ভেতরটা চনমন করে ওঠে। বয়সটা যা-ই হোক না কেন, বয়সের পারদ ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামতে নামতে একুশ-বাইশে এসে ঠেকে।
প্রতিটি বয়স্ক মানুষের ভেতরে এক জন তরুণ বা তরুণী ভেসে ওঠে। কলেজে বা ইউনিভার্সিটি পড়া অবস্থায় পাশের বাড়ির ছাদে কোনো ছেলে বা মেয়েকে দেখলে যে মেয়ে বা ছেলের মনে ভালোলাগা কাজ করত। ভালোবাসার মাতাল হাওয়া তোলপাড় করত চারপাশ। সেই ফাল্গুন মাস আগুন লাগার মাস। আগুন লাগে কৃষ্ণচূড়া আর পলাশের বনে। আগুন লাগে বাঙালি সংস্কৃতির চেতনায়। সেই সংস্কৃতির ধারক-বাহকেরা তাই তো কবিতা উত্সবে মেতে ওঠে। কখনোবা বন্ধুরা মিলে বইমেলার দিকে ছোটে। পাবলিক লাইব্রেরিতে আবৃত্তির অনুষ্ঠানও বাদ যায় না। ফাল্গুনের প্রথম দিনটা অন্য আট-দশটা দিনের চেয়ে একেবারেই আলাদা। সকাল থেকে চারুকলায় যেন রঙের আসর বসে। বাসন্তী রং শাড়ি, বাসন্তী রং শাড়ি, বাসন্তী রং শাড়ি...। বসন্ত এসে ধরা দেয় মনে। শাহ আবদুল করিমও উসকে দেন তাঁর ‘বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে...বন্ধুর বাড়ির ফুলের সুবাস আমার বাড়ি আসে...’ এই গানের মাধ্যমে। ফাগুনের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে থাকাটা খুব কষ্টকর। তাই তো ছুটে যাওয়া প্রিয়মুখের কাছে, গায়ে বাহারি পাঞ্জাবি চড়িয়ে। ছুটে যাওয়া খোঁপায় গাদা ফুল গুঁজে বাসন্তী রং শাড়ি পরে। করোনা মহামারির এই সময়েও সামাজিক দূরত্ব আর স্বাস্হ্যবিধি মেনে ঢল নামবে ফাল্গুনের আহ্বানে। বসন্ত বরণে।
শুরুতে বলেছিলাম ফেব্রুয়ারি মাসের সঙ্গে ফাল্গুন মাসের গভীর সম্পর্কের কথা। বাংলায় ফেব্রুয়ারি লিখতে ‘ফ’ লাগে আর ফাল্গুন লিখতেও ‘ফ‘। এই দুই ‘ফ’-এর ভালোবাসায় মেতে উঠুক এবারের ভালোবাসা দিবসের পাশাপাশি পয়লা ফাল্গুন। বাতাসে ছড়িয়ে পড়~ক গত শতাব্দের ষাটের দশকে খন্দকার ফারুক আহমদের গাওয়া ধীর আলী মিয়ার সুরে ফজল-এ-খোদার লেখা সেই গানটি—‘বাসন্তী রং শাড়ি পরে কোন বঁধুয়া চলে যায়।
