এটুআই সম্মাননা ও শিক্ষক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি জরুরি

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৪৫

মোজাহেদুল ইসলাম

 

‘গুণগত শিক্ষা এবং শিক্ষায় উদ্ভাবন’ স্লোগানকে সামনে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এটুআই যৌথভাবে বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিক্ষক সম্মেলন-২০১৯। এই সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও উদ্ভাবনে মাঠ পর্যায়ের দক্ষ শিক্ষক, প্রশিক্ষক, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষা কর্মকর্তাগণদের জাতীয়ভাবে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

সম্মেলনে (আমার গ্রাম-আমার শহর - আমার শিক্ষা)-এর প্যানেল আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এসময় ফিউচার এডুকেশন ফ্রেমওয়ার্ক বিষয়ক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে প্যানেল আলোচনায় (ভবিষ্যত্ শিক্ষা-ভবিষ্যত্ প্রযুক্তি) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

অনুষ্ঠানে ডা. দীপু মনি বলেন, ‘সৃজনশীল পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা একটি পদ্ধতির পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি। এখন পদ্ধতিটি আরো উন্নত করার বিষয়ে প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালাতে হবে। শিক্ষা হতে হবে আনন্দের, যেন শিক্ষার্থীরা শিখতে আগ্রহী হয়। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কারণে অনেকেই মনে করছেন অনেক জব লস হবে কিন্তু আমরা মনে করছি এর মাধ্যমে অনেক নতুন জব তৈরির সুযোগও রয়েছে। সেই জবগুলোর জন্য প্রস্তুতি   এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। তাই ফিউচার এডুকেশন-এর মাধ্যমে আমাদের ক্যারিকুলামকেও যুগোপযোগী করে সাজাবো।’

 তিনি আরো বলেন, ‘সিক্স ক্যাপ স্কিলস-এর প্রতি শিক্ষার্থীদের আরো জোর দিতে হবে।  শিক্ষার্থীরা শুধু শিখবেই না সেগুলো ব্যবহারিক জীবনে কাজে লাগাতে পারাটাই ভবিষ্যত্ শিক্ষার মূল লক্ষ্য। বর্তমান সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।’

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আমরা শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তির সংযোগ তৈরি করে দিয়েছি। পাশাপাশি প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি স্তরে যুগোপযোগী জ্ঞান অর্জনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। শিক্ষার্থীরা যেন মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করে কর্মজীবনে তা কাজে লাগাতে পারে সে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বর্তমান সরকার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তির শিক্ষা পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে, যেন একটি প্রতিষ্ঠানও প্রযুক্তির বাইরে না থাকে।’

এটুআই-এর পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরীর সঞ্চালনায় ‘আমার গ্রাম-আমার শহর - আমার শিক্ষা’ বিষয়ক প্যানেল আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-এর অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর-এর মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ এফ এম মনজুর কাদির।

দিনব্যাপী শিক্ষক সম্মেলন-২০১৯ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল মাঠ পর্যায়সহ দেশসেরা শিক্ষকদের কাজের স্বীকৃতি ও সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে মানসম্পন্ন শিক্ষা অর্জনে আইসিটির ব্যবহার জোরদারকরণের লক্ষ্যে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করা। সম্মেলন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনুে শিক্ষকদের অনুপ্রাণিত করবে এবং মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্টের মাধ্যমে আনন্দদায়ক ও কার্যকর শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করে শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। এটুআই আয়োজিত সারা দেশে ‘মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট প্রতিযোগিতা’-এর মাধ্যমে সারা দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে ৪৫ সেরা শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছে।

শিক্ষক সম্মেলন-২০১৯- এ মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট প্রতিযোগিতায় বিজয়ী এবং শিক্ষক বাতায়নে নির্বাচিত সপ্তাহের সেরা মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট নির্মাতাসহ ৩০০ জন শিক্ষককে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট প্রতিযোগিতা ২০১৯ জাতীয় পর্যায়ে মনোনীত ৪৫ জনকে ল্যাপটপ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও, সপ্তাহের সেরা মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট নির্মাতাসহ প্রায় ১৪৫ জন শিক্ষককে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে।