শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ভুয়া লাইসেন্সের নেপথ্যে ১৪২ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ স্কুল

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:০০

ভুয়া পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ বিভিন্ন জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কোনো রকম পরীক্ষা ছাড়াই বিআরটিএ থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি করে আসছিল একটি দালাল চক্র। এর জন্য চক্রটি ১৪২টি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছিল। গত ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি বিআরটিএ কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। 

বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) এ কে এম হাফিজ আক্তার।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. লিটন পাইক, সুজন পাইক, হাসান শেখ ওরফে আকচান, মোহাম্মদ আলী ওরফে মিস্টার, আব্দুল খালেক, আব্দুল্লাহ রনি, সোহেল রানা, সোহাগ, নূর নবী ও হুমায়ুন কবির।

তাদের কাছ থেকে বিআরটিএর ১৫৯টি ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন ফাইল উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে মোটরযান পরিদর্শক আব্দুল মান্নান স্বাক্ষরিত ও সিলমোহরযুক্ত ৫৮টি, একই কার্যালয়ের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নাঈমা বেগম স্বাক্ষরিত ও সিলমোহরযুক্ত ৮৩টি, কর্মকর্তা আল ফয়সাল স্বাক্ষরিত ও সিলমোহরযুক্ত ৭টি, এনামুল হক ইমন স্বাক্ষরিত ও সিলমোহরযুক্ত ৭টি, ইকবাল আহমেদ স্বাক্ষরিত ও সিলমোহরযুক্ত ৪টি আবেদন ফাইল রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালক বরাবর ডোপ টেস্টের সনদ পাওয়ার আবেদন ১৫টি, কালো রঙের দুটি মনিটর, দুটি সিপিইউ, দুটি কিবোর্ড, একটি কালার প্রিন্টার, লেমিনেটিং মেশিন একটি, ভিজিএ কেবল দুটি এবং দুটি পাওয়ার কট জব্দ করা হয়।

অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, সারা দেশে ১৪২টি ড্রাইভিং লাইসেন্স স্কুল আছে এবং এদের অধিকাংশ এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত। বিআরটিএর কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে কোনো প্রকার ট্রেনিং ছাড়াই অদক্ষ ড্রাইভারদের ড্রাইভিং লাইসেন্স তারা তৈরি করে দেয়। এর ফলে লাইসেন্স পাচ্ছে অদক্ষ ড্রাইভার, দিনে দিনে বাড়ছে দুর্ঘটনা।

আসামিদের কাছ থেকে জব্দ করা ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন ফাইলের পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনের বিপি নম্বর দেখে বোঝা গেছে, বাংলাদেশ পুলিশের বিপি নম্বরের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। তিনি বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টগুলো অল্প সময়ে করে দেওয়ার জন্য বিআরটিএ, ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩-এর কিছু অফিসারকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে আবেদন ফাইলগুলো অফিসের বাইরে নিয়ে আসে। এরপর জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সিলমোহরযুক্ত স্বাক্ষরিত পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট তৈরি করে গ্রাহকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বানিয়ে দেয়।

তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা আরো স্বীকার করে যে, পলাতক আসামিরা দিয়াবাড়ী বিআরটিএ অফিস ও এর আশপাশ এলাকায় থাকে। চক্রের পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন