শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে তরুণীদের ভিডিও ধারণ করতো ফাহাদ: র‌্যাব  

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৯:৫৮

গুগলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির কথা বলে ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে তরুণীদের গোপন ভিডিও ধারণ করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আল ফাহাদ (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।  

বুধবার রাতে রাজধানীর গুলশানের নৰ্দ্দা এলাকা থেকে  তাকে গ্রেফতার করা হয়।  বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

র‌্যাব জানায়,  গ্রেফতারের সময় ফাহাদের  কাছ থেকে একটি ক্যামেরা, ক্যামেরার দুটি লেন্স, একটি মোবাইল ফোন, ছয়টি সিমকার্ড, একটি এক্সটারনাল মেমোরি কার্ড ও ৪০৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

খন্দকার আল মঈন জানান, তরুণীদের গুগল উইকিপিডিয়াসহ দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক সংস্থায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখাতো ফায়াদ। চাকরিপ্রত্যাশীদের অনেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করতো। চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে তিনি রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ সাড়ে তিনশ থেকে ৫০০ টাকা নিতো । পরে মোবাইলে বিশেষ অ্যাপসের মাধ্যমে নারীকণ্ঠে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতো। এছাড়া প্রার্থীদের করোনাকালীন ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে বলে জানানো হতো। ভিডিওকলে মেডিক্যাল নেওয়ার কথা বলে কৌশলে ভিকটিমদের গোপন ভিডিও ধারণ করতো। পরে গোপন ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতো।  এভাবে অভিযুক্ত ফাহাদ শতাধিক নারীকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করেছে।

তিনি আরও জানান, চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যাশীদের অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হতো। ফাহাদ নিজেই বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে ভয়েস পরিবর্তন করে নারীকণ্ঠে চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলে ‘ভুয়া নিয়োগ’ প্রক্রিয়া শেষ করতো। বিভিন্ন নারীর নাম ব্যবহার করে চাকরিপ্রত্যাশীদের দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিতো। ফায়াদ কণ্ঠ পরিবর্তন করে কখনো এডমিন অফিসার, কখনো মেডিক্যাল অফিসার পরিচয় দিয়ে ভিকটিমদের ভার্চুয়াল মেডিক্যালের নামে গোপন ভিডিও ধারণ করতো।

কে এই ফাহাদ: কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, ফাহাদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। সে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। পরে লেখাপড়া ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে তার বাবার সঙ্গে রেলস্টেশনের পাশে একটি ফলের দোকানে বসতো। ফল বিক্রির আড়ালে ফেসবুকে বিভিন্ন চাকরির গ্রুপে যোগ দেয়। পরে গ্রুপে দেশি-বিদেশি কোম্পানির বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে চাকরি দেওয়ার নামে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করছিল। প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের কাজে ফেসবুকে বেশ কিছু নারীর ভুয়া আইডি ব্যবহার করতো।

 

ইত্তেফাক /কেএইচ/ইউবি