অর্থনীতিতে গতি আনতে মানবসম্পদ উন্নয়ন

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ২১:১৫

 

রেজাউল করিম খোকন

 

বাংলাদেশ অগ্রগতির নানা ধাপ অতিক্রম করে এগিয়ে চলেছে। এখন বিশ্বব্যাপী কারিগরি জ্ঞানের কদর খুব সহজেই চোখে পড়ে। বিদেশে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এক কোটিরও বেশি মানুষ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাঙ্গাভাব সৃষ্টি করে রেখেছে অনেক দিন ধরে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশসহ আমেরিকায় বাংলাদেশের অগণিত মানুষ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। অদক্ষ, আধাদক্ষ কারিগরী জ্ঞান না থাকা শ্রমিক, কর্মীদের বেতন নিয়ে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, মালিকের সঙ্গে দরকষাকষির সুযোগ থাকেনা। তারা অন্যান্য দেশের কারিগরী জ্ঞান থাকা শিক্ষিত দক্ষ শ্রমিক কর্মীদের তুলনায় এক্ষেত্রে অনেক দুর্বল এবং অসুবিধাজনক অবস্থানে থাকেন। ফলে তারা উচ্চ হারে পারিশ্রমিক দাবি করতে পারে না। অনেকটা বাধ্য হয়ে তারা অপেক্ষাকৃত কম বেতনে সেখানে কাজ করেন। এ কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজারে বাংলাদেশ এখনো বেশ অনেকটা পিছিয়ে আছে।

বর্তমান সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে ক্রমবর্ধমান ইন্ডাস্ট্রি হচ্ছে বিপিও খাত। বিপিও মানে বিজনেস প্রসেস আউট সোর্সিং। এখন ‘বিজনেস প্রসেস আউট সোর্সিং’ নামটা বিশ্বজুড়ে খুব পরিচিত বলা যায়। আউট সোর্সিং বলতে শুধু কলসেন্টার আউটসোর্সিং নয়। টেলিকমিউনিকেশন, ব্যাংক, বীমা, হাসপাতাল, হোটেলের ব্যাক অফিসারের কাজ, হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্ট, আইটি, অ্যাকাউন্টস ডিভিশন সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত। এসব কাজ আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে করার বিষয়টি সাধারণভাবে ‘বিপিও’ বলে পরিচিত সবার কাছে। আইসিটি খাতে বর্তমানে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এ খাতে বাংলাদেশের যে অগ্রগতি এবং পরিবর্তনের গল্প, তার উল্লেখযোগ্য অবদান হচ্ছে বিপিও খাতের। বছরে প্রায় ১৮০ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আসে এ আইসিটি খাত থেকে। বাংলাদেশে এখন বিপিও একটি নতুন সম্ভাবনার নাম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ এখানকার বিপিও ব্যবসার প্রবৃদ্ধি বছরে শত ভাগের বেশি। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিপিওর বাজার ৫০০ বিলিয়ন ডলার। সেখানে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ দখল করতে পেরেছে মাত্র ১৮০ মিলিয়ন ডলার। অতত্রব, এখান থেকে সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, বিপিও খাতে একটি বিশাল সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং অর্থাত্ বিপিওকে আরো অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য এবং জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাপানে এই মুহূর্তে কম্পিউটার প্রোগ্রামের প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ। আগামী ৫ বছরে ২০ লাখ প্রোগ্রাম কোডারের প্রয়োজন হবে জাপান, ইউরোপ এবং আমেরিকাতে। ঐসব দেশে যথেষ্ট পরিমাণে তরুণ বয়সী জনশক্তি নেই। জাপানে ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর বয়স ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে। তাই আমাদের তরুণদের বড় কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক ডিগ্রি লাভ করছে। তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ বিপিও সেক্টরে আনা সম্ভব। যে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার মানুষের এখানে কাজ করার বিরাট সুযোগ রয়েছে। ২০০৯ সালে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আয় ছিল মাত্রা ২৬ মিলিয়ন ডলার। ৬ বছরের মধ্যে এ খাতে আয় ৩০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে দেশে বিপিও সেক্টরে ৪০ হাজারের বেশি লোক কাজ করছে। আগামী ২০২১ সাল নাগাদ এ খাতে প্রায় ১ লাখ লোক কাজ করবে। বিপিও খাতে আয় যত বাড়বে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ততই এগিয়ে যাবে। বিপিওতে যারা কাজ করছে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এতদসংশ্লিষ্ট প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ফলে এর মাধ্যমে শুধুমাত্র দেশে মধ্যে নয় আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য যে কেউ নিজেকে প্রস্তুত করে তুলতে পারবে। বাংলাদেশে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রকল্পে, শিল্প প্রতিষ্ঠানে, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে বিদেশি বহু বিশেষজ্ঞ, অভিজ্ঞ, দক্ষ জনশক্তি নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের উচ্চহারে বেতন দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এভাবে প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা বিভিন্ন দেশের চলে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দেশে প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ জনশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা বেশ বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করা সম্ভব।  ছবি: ইন্টারনেট