ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর ৩৯ বছর অব্যবহূত!

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ২১:২৫

চরে বেড়ায় গবাদিপশু g চলছে চাষাবাদ g ছেয়ে আছে আগাছায়

তানভীর হাসান তানু , ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

৩৯ বছর ধরে অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর। পরিণত হয়েছে গো-চারণভূমিতে। পরিত্যক্ত জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। রানওয়ে ছেয়ে আছে আগাছায়। স্থানীয়রা ফসল শুকানোর কাজে ব্যবহার করছেন রানওয়েটিকে।

স্থানীয়দের দাবি বিমান চলাচল পুনরায় চালু করা হোক। এতে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের মানুষকে ঘুরপথে আর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যেতে হবে না।

ঠাকুরগাঁও জেলা শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে শিবগঞ্জ-মাদারগঞ্জ এলাকায় ৫৫০ একর জমির উপর ১৯৪০ সালে এ বিমানবন্দরটি নির্মিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সামরিক উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বন্দরের রানওয়ে তিন কিলোমিটার লম্বা। এই রানওয়ের পশ্চিম প্রান্তে ছিল ১০টি সাব-রানওয়ে। যেখানে যুদ্ধবিমান লুকিয়ে রাখার বিশেষ সুবিধা ছিল।

পাকিস্তান আমলের প্রথমদিকে বিমানবন্দরের জমি আর্মি স্টেট হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে সিভিল এভিয়েশন বিভাগ ১১১ একর জমি একোয়ার বা হুকুমদখল করে নেয়।  ওই অংশে বিমানবন্দরের স্টল ভবন ও রানওয়ে অবস্থিত। এ প্রসঙ্গে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক শহিদুল আলম চৌধুরী জানান, বন্দরটি নির্মাণের পর কিছুদিন সচল ছিল। পাকিস্তান আমলেও ত্রাণসামগ্রী পরিবহনসহ জরুরি কাজে ব্যবহার করা হতো। স্বাধীনতার পরও ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বিমানবন্দরটির যোগাযোগ ছিল। ঢাকা-ঠাকুরগাঁও রুটে নিয়মিত বিমান সার্ভিস চালু ছিল। তখন থেকেই উত্তরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনপদের সঙ্গে ঢাকার বিমান চলাচলের একমাত্র অবলম্বন ছিল বন্দরটি।

তিনি আরো  জানান, ১৯৮০ সালে লোকসানের কারণ দেখিয়ে বিমান চলাচল বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ। পরে দাবির মুখে ১৯৯৪ সালে পুনরায় বিমান চলাচল চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে রানওয়ে, টার্মিনাল ভবন ও বিদ্যুতায়নের কাজসহ নানা সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়। ওই সময় এ্যারো বেঙ্গল ও বোরাকসহ ছয়টি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে ঢাকা-ঠাকুরগাঁও রুটে স্টল বিমান সার্ভিস চালুর জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি হয়। পরে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি।  তার কিছুদিন পর স্টল বিমান সার্ভিস চালুর প্রক্রিয়াও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। অব্যবহূত  বিমানবন্দরটিকে এখন নিরাপত্তা দিচ্ছে চারজন প্রহরী।

স্থানীয় বাসিন্দা রইসুল হক জানান, নিরাপত্তার জন্য বন্দরটি ঘিরে একসময় কাঁটাতার ও খুঁটি ছিল। এখন আর সেসব অবশিষ্ট নেই। রাতের অন্ধকারে উধাও হয়ে গেছে।

ঠাকুরগাঁও চেম্বারের সাবেক সভাপতি মোদাচ্ছের হোসেন বলেন, বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু হলে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়ের মানুষকে আর ঘুরপথে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যেতে হবে না।

সম্প্রতি রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিমানবন্দরটি পরিদর্শন শেষে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর কাছে পুনরায় বিমানবন্দর চালুর জন্য প্রস্তাবনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।