শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মির্জাপুরে ৯৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:৩৭

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরে স্বাধীনতার ৫১ বছরেও ৯৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি। সোমবার মহান শহীদ দিবস হলেও এ নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, অর্থনৈতিক সংকট, স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের আন্তরিকতার অভাব এবং প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি বলে এলাকাবাসি অভিযোগ করেছে।

রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, শহীদ মিনার নেই। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি ও মির্জাপুর এস কে পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সুলতান উদ্দিন বলেন, স্বাধীনতার ৫১ বছরেও প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ না হওয়া এটা আমাদের জন্য দুঃখ জনক।

মির্জাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, মির্জাপুর পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে কলেজ ৭টি, স্কুল এন্ড কলেজ ৩টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪৯টি, দাখিল মাদ্রাসা ১৪টি, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ২টি এবং ১টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে ৭৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছে ৫০ প্রতিষ্ঠানে। এখন পর্যন্ত শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি ২৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। উপজেলায় ১৪ টি দাখিল মাদ্রাসা থাকলেও ১৩ টি মাদ্রাসায় আজ পর্যন্ত শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি। উপজেলা সদরের বাওয়ার কুমারজানি এলাকায় একমাত্র মহিলা ডিগ্রি কলেজ এবং সদরের পুষ্টকামুরী আফাজ উদ্দিন সিনিয়র দাখিল মাদ্রাসা ঘুরে দেখা গেছে প্রতিষ্ঠানে কোন শহীদ মিনার নেই।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, মির্জাপুর পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ১৭০ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৯৯ শিক্ষা শহীদ মিনার নির্মাণ হলেও ৭১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হলে তারা শহীদ মিনার নির্মাণ না হওয়ার বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে ধরেন।

জানা গেছে, সরকারী নির্দেশনায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে গড়ে উঠছে না শহীদ মিনার। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের জন্য এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেশ স্বাধীনতার ৫১ বছরেও গড়ে উঠেনি শহীদ মিনার। শহীদ মিনার না থাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসসহ জাতীয় দিবসগুলোতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে না। শিক্ষার্থীদের অনেক দুর দুরন্তে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ হবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসির।

মির্জাপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষা মো. হারুন অর রমিদ বলেন, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অর্থ সংকটের কারণে ক্যাম্পাসে শহীদ মিনার নির্মাণ করতে পারছি না। প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, সরকারী নির্দেশনা রয়েছে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য। অর্থনৈতিক সংকটসহ নানা কারণে শহীদ মিনার নির্মাণ হচ্ছে না। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন অর রশিদ হোসেন বলেন, সরকারি বরাদ্দ না পাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান শহীদ মিনার নির্মাণ করতে পারেনি। অনেকে নিজস্ব উদ্যোগে শহীদ মিনার নির্মাণ করেছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠানে সরকারী সহায়তা, কিছু প্রতিষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ এবং ব্যক্তি উদ্যোগে শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছে। যে সব প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত শহীদ মিনার নির্মাণ করতে পারেনি প্রশাসন থেকে তালিকা সংগ্রহ করে তাদের সহায়তার মাধ্যমে শহীদ মিনারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।