শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রাজবাড়ীতে ৫৭৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৩:০৮

রাজবাড়ীর পাঁচ উপজেলার ৭৪৪টি (প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কলেজ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৭৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই স্থায়ী শহীদ মিনার। এতে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা বাংলা ভাষা অর্জনের তাৎপর্য ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলছে।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৩টিতে শহীদ মিনার রয়েছে। এছাড়াও ৭৪টি মাদরাসার মধ্যে ১টিতে এবং ৪৩টি কলেজের মধ্যে ১৩টিতে রয়েছে শহীদ মিনার।

এসব উপজেলার শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সরকারি অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ভাষা শহীদদের স্মরণে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা যায়নি। জেলার মোট ৪৮১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬২টি প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় বিত্তবানদের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে। বাকি ৪১৯টি বিদ্যালয়ে নেই স্থায়ী শহীদ মিনার।

সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাসরিন আক্তার জানান, সদর উপজেলার ১৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মধ্যে ১৫টি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার রয়েছে।  এছাড়া ১১৯টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। গোয়ালন্দ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. কবির হোসেন জানান, উপজেলার ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৬টি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার রয়েছে। এছাড়া ৩৫টি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। পাংশা উপজেলা শিক্ষা অফিসার কে এম নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলাতে ১২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭টি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার রয়েছে। বাকি ১১৪টি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি। বালিয়াকান্দি উপজেলা শিক্ষা মো. আশরাফুল হক জানান, উপজেলায় ৯৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার রয়েছে। বাকি ৮৯টি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। কালুখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ বলেন, উপজেলার ৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৪টি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মিত রয়েছে। বাকি ৬২টি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই।

বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, পড়ালেখার মাধ্যমে শহীদ মিনার সম্পর্কে যতটা জানা যায়, তার থেকে বেশি জানা যায় বাস্তব দেখে। এতে শহীদদের প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। এজন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা জরুরি এবং সরকারের এদিকে নজর দেয়া উচিত।

শের-এ-বাংলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিমসহ কয়েকজন শিক্ষক বলেন, অনেক বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী শহীদ মিনার থাকায় সেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। তারপরও ইতিহাস জানতে প্রতিটি স্কুলে শহীদ মিনার থাকা দরকার।

এ ব্যাপারে রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে ইয়াসমিন করিমী জানান, শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য সরকারি ভাবে কোন বরাদ্দ নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ উদ্যোগে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য উত্সাহিত করা হচ্ছে। 

জেলা শিক্ষা অফিসার মো. হাবিবুর রহমান জানান, মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশনা আছে চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করার। করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সর্বোচ্চ পাঁচজন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেশি মানুষও উপস্থিত হতে পারবে।

ইত্তেফাক/এমআর