দিনাজপুরে বেড়েই চলেছে চালের দাম, বিপাকে ক্রেতারা

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৪:৪৬

দিনাজপুরে বেড়েই চলেছে চালের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে প্রতি কেজিতে চালের দাম বেড়েছে ২ থেকে ৩ টাকা। আর বস্তাপ্রতি বেড়েছে ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা। চালের বাজারে ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে পড়েছে সাধারণ ক্রেতারা। 

বাজারে চালের দাম বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীরা দুষছেন মিল মালিকদের। আর মিল মালিকরা বলছেন, বাজারে ধানের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেড়েছে চালের দাম। পাশাপাশি মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং চিকন চালের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় চিকন চালের দাম বেড়েছে বলে জানান মিল মালিকরা।

দিনাজপুর শহরের প্রধান চালের বাজার বাহাদুরবাজারে গিয়ে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম ২ টাকা থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। এর মধ্যে বিআর-২৮ জাতের চাল ৫৩ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ টাকা, মিনিকেট চাল ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৬২ টাকা, নাজিরশাইল চাল ৬৮ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা, স্বর্ণা চাল প্রকারভেদে ৪০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৩ টাকায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চালের দাম বেড়েছে ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা, আর পাইকারি বাজারে বেড়েছে ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা।

বাহাদুরবাজারের পাইকারি চাল বিক্রেতা এরশাদ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী এরশাদ আলী জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে বস্তাপ্রতি চালের দাম বেড়ে বর্তমানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা গুটি স্বর্ণা ২ হাজার টাকা, পাইজাম ২ হাজার ২৫০ টাকা, বিআর-২৯ চাল ২ হাজার ৪০০ টাকা, বিআর-২৮ চাল ২ হাজার ৭০০ টাকা, প্রকারভেদে প্রতি বস্তা মিনিকেট ২ হাজার ৮৫০ টাকা থেকে ৩ হাজার ১০০ টাকা, নাজিরশাইল ৩ হাজার ৪০০ টাকা ও সিদ্ধ কাটারি ৫ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল এনে প্রতি বস্তায় ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা লাভে তারা চাল বিক্রি করে থাকেন। মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় বাধ্য হয়েই তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

দিনাজপুর চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোছাদ্দেক হুসেন জানান, বাজারে ধানের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার কারণেই চালের দাম বেড়েছে। আগামী দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে ধানের সরবরাহ বেড়ে গেলে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ মোটা চাল খাচ্ছে না। ফলে চিকন চালের ওপর চাপ বেড়েছে। এই চাপের কারণেও দাম বেড়েছে। এই চাপ থেকে বের হয়ে আসতে হলে আমাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে এবং চিকন চালের আবাদ বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই ফুডগ্রেন্ট লাইসেন্স নিয়ে বা লাইসেন্স না নিয়েই খাদ্যশস্য মজুত করছে এবং মূল্যবৃদ্ধি হলে তা বাজারে বিক্রি করছে। এটা যদি আমরা রোধ করতে পারি এবং ব্যাংকগুলো যদি এ ধরনের ব্যবসায়ীকে অর্থ প্রদান না করে তাহলে যারা উৎপাদন ছাড়াই মজুত করে থাকে, তারা নিরুত্সাহিত হবে এবং আমরা ধান-চালের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পারব।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম সাইফুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, 'ইতিমধ্যে দিনাজপুরের বিভিন্ন বাজারে চালের দামের ঊর্ধ্বগতি দেখে আমরা ওএমএস চালু করেছি। এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যন্ত আপাতত ৪০ মেট্রিক টন চাল ও ৪০ মেট্রিক টন আটা দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি এই উদ্যোগে চালের বাজার স্থিতিশীল হবে।' 

ইত্তেফাক/এআই