রাজশাহীর পুঠিয়ায় ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বেসরকারি সংস্থা ‘উত্তরা ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম সোসাইটি (ইউডিপিএস)’ শাখা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী এনজিও কর্মকর্তা কামেল উদ্দিনের (৪৫) বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাসির উদ্দিন জানান, গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে পুঠিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। পরের দিন ভুক্তভোগী ওই নারী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এতে উত্তরা ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম সোসাইটি (ইউডিপিএস) এনজিওর পুঠিয়া উপজেলা শাখা কর্মকর্তা কামেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, তিনি ইউডিপিএসর সদস্য। তিনি মোতাবেক গত বছর সেখান থেকে একটা ঋণ নিয়েছিলেন। তবে করোনাভাইরাসের প্রভাবে পরিবারে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে সময়মতো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন।
তিনি আরও জানান, গত শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে ঋণ আদায়ের বিষয়ে আলোচনার কথা বলে ওই কর্মকর্তা তাদের বাড়িতে যান। তার স্বামী একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যানের চাকরি করেন। এ কারণে রাতে তার বাড়িতে আসতে একটু দেরি হয়। এ সুযোগে ওই এনজিও কর্মকর্তা প্রথমে তাকে শারীরিক মিলনের কুপ্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি, এনজিও কর্মকর্তার প্রস্তাবে রাজি না হলে তিনি তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি চিৎকার শুরু করলে এনজিও কর্মকর্তা পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কামেল উদ্দিন ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ঋণ নিয়ে ওই নারী দীর্ঘদিন থেকে কিস্তি পরিশোধ করেননি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তিনিসহ অফিসের কযেকজন স্টাফ বকেয়া ঋণ আদায়ের জন্য ওই নারী সদস্যের বাড়িতে যান। তখন ওই নারী তাদের ঋণের কিস্তির টাকা না দিয়ে অপমান করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। এখন শুনছেন, তার বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় ধর্ষণের চেষ্টার মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পুঠিয়া থানার ওসি সোহরাওয়ার্দী হোসেন।
