নিয়মিত পারফরম্যান্স যাচাই ও হালনাগাদও প্রয়োজন

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৯:৩৫

মজুত খাদ্যের গুণমান রক্ষায় খাদ্যগুদামের ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খাদ্যগুদাম ব্যবস্থাপনায় ‘সরকারি খাদ্যগুদামের খামাল ব্যবস্থাপনা’ নামে একটি সফটওয়্যার চালু করা হইয়াছে। দেশে প্রথম বারের মতো চালু করা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে গুদামের সার্বিক কার্যক্রম অনলাইনেই তদারকি করা যাইবে। ইত্তেফাকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গিয়াছে, গুদামে সংরক্ষিত খাদ্যশস্য মজুত ব্যবস্থাপনা তদারকিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রকের জন্য প্রতি মাসে আট বার এবং জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক প্রতি দুই মাসে একবার খাদ্যগুদামগুলি পরিদর্শনের নির্দেশনা রহিয়াছে। প্রকৃতপক্ষে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকরা মাসে দুই বার এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুই মাসে এক বার খাদ্যগুদামগুলিতে গিয়া খামালের মজুত যাচাই-বাছাই করিয়া থাকেন। অথচ গুদামে প্রবেশ না করিয়া গুদামের কোন খামালে কী পরিমাণ মজুত রহিয়াছে—তাহা জানা সম্ভব নহে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে খামালের অবস্থান মার্ক করা হয় না, ফলে ওয়ারেন্টি ভঙ্গ করিয়া খাদ্যশস্য বিতরণের সুযোগ থাকে। তবে এইবার সফটওয়্যার চালু করিবার ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দূরে অবস্থান করিয়াও খামালভিত্তিক মজুত ও ট্রানজেকশন তদারকি করিতে পারিবেন। এই উদ্যোগের সহিত সংশ্লিষ্টরা সাধুবাদ পাইবেন নিশ্চয়ই।

উন্নত বীজ উদ্ভাবন, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় খাদ্য উত্পাদন ও মজুত করিবার সকল বিষয় এখন বিজ্ঞানের সহিত সরাসরি জড়িত। আমাদের কৃষিজমি দিনকে দিন অল্প অল্প করিয়া কমিতেছে, অন্যদিকে খাবারের মুখ বাড়িতেছে। সুতরাং অল্প জমিতে অধিক কিংবা বাম্পার ফলন এবং তাহা সংরক্ষণের জন্য বিজ্ঞানই আমাদের সবচাইতে বড় সহায়। এখন খাদ্যগুদাম ব্যবস্থাপনায় ‘সরকারি খাদ্যগুদামের খামাল ব্যবস্থাপনা’ নামে একটি সফটওয়্যার চালু করিবার মাধ্যমে আমরা আধুনিক প্রযুক্তির সদ্ব্যবহারে আরো এক ধাপ আগুয়ান হইলাম নিঃসন্দেহে। তবে বিদ্যমান সমস্যাগুলির দিকেও বিশেষভাবে নজর দিতে হইবে। সমগ্র দেশেই খাদ্যগুদামের সংকট রহিয়াছে। ধান উত্পাদিত হয়—এমন এলাকাগুলিতে অধিক পরিমাণ গুদাম থাকিবার কথা থাকিলেও বাস্তবে তাহা নাই। আবার দেখা যায়, গুদাম থাকিলেও সেইগুলি নানা কারণে বন্ধ রহিয়াছে। অনেক খাদ্যগুদাম এতটাই জরাজীর্ণ অবস্থায় রহিয়াছে যে, সেইগুলিতে খাদ্য রাখাটা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়াছে, জরাজীর্ণ গুদামে খাদ্য রাখিবার ফলে বিপুল পরিমাণে খাদ্যশস্য নষ্ট হইয়াছে। সামান্য বৃষ্টিতে গুদামের ভিতরে পানি প্রবেশ করিয়া থাকে। পুরাতন গুদামের অবস্থা খুবই করুণ। এই সকল খাদ্যগুদামে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের উপযুক্ত পরিবেশেরও অভাব রহিয়াছে। ফলে এই সকল খাদ্যগুদামে কীটের আক্রমণের আশঙ্কা থাকিয়া যায়। আবার সংরক্ষণের উপযুক্ত পরিবেশ না থাকিবার কারণে বিভিন্ন সময়ে গুদামজাত খাদ্যের মান লইয়াও প্রশ্ন উঠিয়াছে। আমরা দেখিয়াছি যে, সাধারণত বেসরকারি গুদামে মাসের পর মাস চাল থাকিলেও সেইগুলি পোকায় খাওয়া বা নষ্ট হইবার খবর মিলে না; কিন্তু সরকারি গুদামে ইহা ফি বত্সরই ঘটে। এই ক্ষেত্রে সরকারি গুদাম ব্যবস্থাপনার পারদর্শিতা লইয়া প্রশ্ন উঠে। কোন সময়ে চাল সংগ্রহ করিয়া কতদিন তাহা রাখা হইবে এবং কীভাবে ইহা ব্যবস্থাপনা ও বণ্টন হইবে—তাহার নিশ্চয়ই সঠিক গাইডলাইন রহিয়াছে। ইহা সঠিকভাবে মানিতে হইবে। ইহার পাশাপাশি গুদামে চাল সংগ্রহের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নূতন গুদাম নির্মাণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ গুদাম সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা প্রায়শই এই ধরনের খবর প্রকাশিত হইতে দেখি যে, গুদামসংকটের কারণে কৃষকদের নিকট হইতে ধান-চাল ক্রয় করিতে পারিতেছে না সরকার। ইহাতে কৃষকেরা প্রায়শই ক্ষতির মুখে পড়িয়া থাকেন। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতের দিক হইতে এই বিষয়গুলির প্রতি বিশেষভাবে নজর দিতে হইবে বইকি।

খাদ্যগুদাম ব্যবস্থাপনায় নূতন সফটওয়্যারের বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টি রাখিয়াই আমরা বলিতে চাই যে, যন্ত্রের যন্ত্রণাও আছে। যে কোনো সময় সফটওয়্যারে গোলমাল ঘটিতেই পারে; সুতরাং এই বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি যে, নিয়মিত সফটওয়্যারের পারফরম্যান্স যাচাই এবং উহার হালনাগাদ আবশ্যক।

ইত্তেফাক/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন