তাহিরপুর সাংবাদিক লাঞ্চিত: আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ৯

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৬:৫২

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার ঘটনার জেরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৯ জন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দৈনিক আজকের পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি ছাত্রলীগ নেতা রাজন ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হাফিজ উদ্দিন পলাশের মধ্যে ঝগড়া-ঝাটিকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ ঝগড়াকে কেন্দ্র করে রাজনের বাবা ও স্থানীয় প্রবীণ সাংবাদিক উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি রমেন্দ্র নারায়ন বৈশাখকে রবিবার প্রকাশ্য দিবালোকে উপজেলা সদরের বাজার গলিতে নিয়ে মারপিট করে হাফিজ উদ্দিনের ভাতিজারা। পরে তাকে সিলেট উসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা সদরে মানববন্ধন করে তাহিরপুর উপজেলা প্রেসক্লাব ও স্থানীয় নাগরিক ঐক্য পরিষদ।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণে করায় হাফিজ উদ্দিনের ভাতিজা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবুল বাশরের নেতৃত্বে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তানসেন তালুকদার তুষারের ওপর আক্রমণ করে একদল যুবক। তুষারের পরিবারের লোকজন এসময় এগিয়ে এলে তাহিরপুর উপজেলা সদরের মধ্য বাজারে দুপক্ষের মাঝে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ চলাকালে দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল দিয়ে পরস্পরের ওপর হামলা চালানো হয় দুই পক্ষই। 

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার সুমন বর্মণ জানিয়েছেন, সংঘর্ষে আহতদের ৯ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুরুতর আহতদের সিলেট ও সুনামগঞ্জে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহতরা হলেন, সুমি (৫০), আনজু মিয়া (৩০), অনিক মিয়া (২৫), বাবলী চৌধুরী (৩৫), অংকন গণি (৩০), নেজারুল ইসলাম (৩০), মাসুম মিয়া (২২), রুমেন মিয়া (৩০), রুনা বেগম (৪৫), তানসেন তালুকদার তুষার (৩০), রাসেল মিয়া (৩০), পারভিন আক্তার (৪৯) ও এমদাদুল মিয়া (৩৫)।

এ বিষয়ে রাজন চন্দ বলেন, আমার বাবা একজন প্রবীণ সাংবাদিক। গত ২০ ফেব্রুয়ারি আমার সঙ্গে বাকবিতন্ডাকে কেন্দ্র করে আমার বাবার ওপর যুবলীগ আহ্বায়ক হাফিজ উদ্দিন ও তার ভাতিজারা হামলা চালায়। তিনি এখন সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তাহিরপুর উপজেলা প্রেসক্লাব ও নাগরিক সমাজের ব্যানারে প্রতিবাদ সভা করার জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হাফিজ উদ্দিন এই প্রসঙ্গে বলেন, আমি আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে একটি সালিশ বৈঠকে ছিলাম। বৈঠক শেষে বাড়ির দিকে রওনা দিয়ে জানতে পারি, তানসেন তালুকদার তুষার আমার চাচাতো ভাই নাজমুল হুদা সংগ্রামকে মোটরসাইকেল দিয়ে ধাক্কা দেয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয়েছে।

তাহিরপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ তরফদার জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষ ঠেকাতে সাত রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে কামরুর ইসলাম, বদরুজ্জামান, আসাদ মিয়া ও সৈয়দ গোলাম হোসেন নামের চার জনকে আটক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত উপজেলা সদরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি