কল্পবিজ্ঞানের যুগে প্রবেশ!

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:৪২

ইংরেজ লেখক এইচ জি ওয়েলস বলিয়াছেন—‘সভ্যতা হইল শিক্ষা আর বিপর্যয়ের মধ্যে এক দৌড়।’ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে প্রযুক্তিনির্ভর হইয়া উঠিতেছে মানুষের জীবন। প্রযুক্তি শিক্ষা ছাড়া এখন মানুষ অশিক্ষিত। কয়েক বৎসর পূর্বেও মানুষ কল্পনাও করিতে পারে নাই যে, জীবন এত সহজ হইবে! বর্তমানে প্রতিটি ব্যাংকের অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থা রহিয়াছে। নয়তো নিজস্ব অ্যাপ হইতেই টাকা প্রয়োজন মতো খরচ এবং বিভিন্ন ধরনের কেনাকাটা করিতে পারিতেছেন স্মার্ট গ্রাহকরা। ‘বিকাশ’ ও ‘নগদ’-এর মতো অসংখ্য অ্যাপ প্রযুক্তি কম বোঝে—এমন মানুষের জীবনযাত্রাকেও সহজ করিয়া দিয়াছে। ইহাতে দেশের এক জায়গা হইতে অন্য জায়গায় দ্রুত সময়ের মধ্যে অর্থের লেনদেন যেমন করা যাইতেছে, তেমনি মোবাইল ফোনে রিচার্জ, বিদু্যত্, পানি ও গ্যাসের বিল প্রদানের কাজগুলিও এই সকল অ্যাপের মাধ্যমে করা যাইতেছে খুব সহজেই। অ্যাপসের মাধ্যমেই ঘরে বসিয়া বাস, ট্রেন, বিমানের টিকিট কাটা যাইতেছে। ইহাতে মুঠের মধ্যে বিকল্প পছন্দও থাকিতেছে অনেক বেশি। শহরে যাতায়াতের জন্য উবার-পাঠাও-ওভাই অ্যাপস ভাঙিয়া দিতেছে মনোপলি ব্যবস্থা। একসময় টিকিটের জন্য রেল বা বাসস্ট্যান্ডে রাত্রি যাপন করিতেও দেখা গিয়াছে যাত্রীদের। সেই অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাইয়া সহজ সমাধান দিতেছে এই অ্যাপগুলি।

আমরা ইন্টারনেটের জাদুকরি ব্যবস্থায় একধরনের কল্পবিজ্ঞানের যুগে প্রবেশ করিয়াছি। জুলভার্নের কল্পবিজ্ঞানে যাহা ছিল নিতান্তই অতিকল্পনা, তাহার চাইতেও অনেক বেশি কিছু এখন বাস্তব। বরং এমন কিছু প্রাযুক্তিক বাস্তবতার জগতে আমরা প্রবেশ করিয়াছি, যাহা মাত্র ৩০ বত্সর পূর্বেও অকল্পনীয় ছিল। সুতরাং আগামী কয়েক দশকে প্রযুক্তি আমাদের কোথায় লইয়া যাইবে, তাহা অচিন্ত্যনীয়। আমরা স্মরণ করিতে পারি, গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে এই দেশে ইন্টারনেটের প্রথম যুগে এই প্রযুক্তির বিশেষ প্রাণ ছিল না। এই প্রাণটা আনিয়া দিয়াছে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস। তাহা ব্যাংকিং খাতের, যাতায়াতের টিকিটের কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের। ফেসবুকের জন্ম তো সমগ্র প্রেক্ষাপটেই আমূল বদলাইয়া দিয়াছে। আমরা কি কল্পনা করিতে পারি, সেই পরিবর্তনটা কতখানি সুদূরপ্রসারি? সকালে উঠিয়া এখন খবরের কাগজের পরিবর্তে আমরা সকলের পূর্বে খুঁজি আমাদের মোবাইল ফোনটি। এক ঝলক ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপের পোস্টগুলিতে চোখ বুলাইয়া তাহার পর সংবাদপত্রের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ কিংবা অ্যাপস কিংবা তাহাদের ওয়েবসাইটে গিয়া খবর পড়ার অভ্যাস এখন অনেক তরুণের নূতন ট্রেন্ড। ইহাই বাস্তবতা। সংবাদ প্রচারের তাত্ক্ষণিকতায় সোশ্যাল মিডিয়া সকলের পূর্বে। ঘটনা ঘটিবার অপেক্ষা শুধু। মুহূর্তে তাহা টুইটার, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউবের কল্যাণে সমগ্র বিশ্বে ছড়াইয়া পড়িতেছে। স্পটে উপস্হিত মানুষের মধ্যে কেহ না কেহ ছবি বা ভিডিও তুলিয়া তাহা শেয়ার করিয়া দিতেছেন। অনেক ক্ষেত্রে লাইভ সম্প্রচারও করা হইতেছে! এই জন্য কেহ আর টিভির সংবাদেরও অপেক্ষা করে না। সকলই ইন্টারনেটের বিভিন্ন অ্যাপে পাওয়া যায়। হাতঘড়ি এখন আর প্রয়োজনীয় বস্ত্ত নয়, ফ্যাশনসামগ্রী মাত্র। আমরা টেলিগ্রাম করা ভুলিয়াই গিয়াছি। পোস্টকার্ড, এনভেলপ লেটার শেষ কবে ব্যবহার করা হইয়াছে, তাহা মনে করা কষ্টসাধ্য। এনসাইক্লোপিডিয়া শুধু পুরাতন বইয়ের দোকানে পাওয়া যায়। গুগলে সার্চ দিলে জগতের সকল তথ্যের হদিস মিলে যায় চোখের পলকে। ডিভিডি প্লেয়ার আর মিউজিক সিস্টেম ব্যবহার প্রায় উঠিয়াই গিয়াছে। গান শুনিতে বা সিনেমা দেখিতে একটি স্মার্টফোনই যথেষ্ট।

এত সকল সুবিধার মধ্যে মুদ্রার অপর পিঠটাও দেখিতে হইবে। আমরা আজকাল ঘুমাই কম, মেলামেশা করি কম। তথ্যের প্লাবন আমাদের মস্তিষ্কে প্রতিনিয়ত আঘাত করিয়া চলিতেছে। অতএব ইনফরমেশন ওভারলোড, উচ্চরক্তচাপ, হাই সুগার লেবেল—আরো কত কী। ইহার বাহিরে প্রযুক্তি ব্যবহারের আরো অনেক জটিল দিক ও সমস্যা রহিয়াছে। তবে চাকু দিয়া যেমন ডাকাতির পাশাপাশি মানুষের জীবন বাঁচানোয় অস্ত্রপচার করা যায়, প্রযুক্তিও তেমনি। সতর্কতার সহিত আমরা ভালো দিকটার প্রতিই নজর দিতে চাই।

ইত্তেফাক/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন