ন্যাটো প্রধান জেন্স স্টলটেনবার্গ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার ‘অবিবেচক ও উস্কানিমূলক হামলার’ নিন্দা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তিনি সতর্ক করে বলেন, এতে ‘অসংখ্য’ মানুষের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
এক বিবৃতিতে স্টলটেনবার্গ বলেন, আমি ইউক্রেনে রাশিয়ার বেপরোয়া ও উস্কানিমূলক হামলার কঠোর নিন্দা জানাচ্ছি। এ হামলার কারণে অসংখ্য বেসামরিক নাগরিকের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ন্যাটোর মিত্র দেশগুলো ‘রাশিয়ার আগ্রাসনমূলক পদক্ষেপের পরিণতি মোকাবেলার ব্যাপারে বৈঠক করবে।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, আমাদের বারবার সতর্ক বাণী উচ্চারণ এবং এ সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করার ব্যাপারে জোর প্রচেষ্টা চালানো সত্ত্বেও আবারো রাশিয়া একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের পথ বেছে নিলো। এটি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং ইউরো-আটলান্টিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় হুমকি। দ্রুত রাশিয়ার সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করতে এবং ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের প্রতি সম্মান জানাতে আমি মস্কোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই ভয়ঙ্কর সময়ে ইউক্রেনের জনগণের পক্ষে রয়েছি। ন্যাটো তাদের সকল মিত্র দেশকে রক্ষায় সবকিছু করবে।’
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয়ার পর ন্যাটো প্রধান এ বিবৃতি দিলেন। এদিকে এমন ঘোষণার পরপরই ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থান থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
বিবিসি’র সংবাদদাতা পল অ্যাডামস বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি জানিয়েছেন, কিছুক্ষণ আগে সেখানে তিনি পাঁচ থেকে ছয়টি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। এছাড়া কিয়েভ থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়া মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন’র একটি অনুষ্ঠানেও বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাওয়া গেছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিশ্চিত করেছেন যে, তার দেশে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করছে রাশিয়া। ইউক্রেনের অবকাঠামো ও সীমান্ত রক্ষীদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করছে রাশিয়া।
অন্যদিকে, এক বিবৃতিতে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইউক্রেনের কোনো শহরে হামলা করা হচ্ছে না। বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর অত্যাধুনিক অস্ত্রাগারে হামলা করা হচ্ছে।
