দল ভাঙার রাজনীতিতে আমি বিশ্বাস করি না :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ২২:১৮

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি কোনো দল ভাঙার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। কোনো দল ভাঙা বা অন্য কিছু করার নীতিতে যাব কেন? যার যার দল সেই করুক। আওয়ামী লীগে অনেক লোকবল ও জনসমর্থন রয়েছে, অন্যের ভার নিতে যাব কেন? আসলে ক্ষমতা ছাড়া তারা (বিএনপি) রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারে না, কারণ বাংলার মাটিতে তাদের কোনো শিকড় নেই। গতকাল শুক্রবার বিকালে গণভবনে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, স্বেচ্ছায় ও ভোটারদের চাপে বিরোধী দলগুলোর এমপিরা শপথ নিয়েছেন। এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ নেই। অনেক প্রস্তাব আসলেও আওয়ামী লীগ বিশেষ করে আমি দল ভাঙার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই।

লিখিত বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সাম্প্রতিক ব্রুনাই সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হলেও রাজনীতি, অর্থনীতি, রোহিঙ্গা ইস্যু, সাংগঠনিক বিষয় ছাড়াও সাংবাদিকদের বিভিন্ন ইস্যুতে করা প্রশ্নের স্বভাবসুলভ হাসিতে বিস্তারিত উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, তারা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। জনগণের চাপ আছে তাদের ওপর। আর বিএনপি একটা রাজনৈতিক দল। অন্য কোনো দল থেকে তাদের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি এই নৃশংস হামলার নিন্দা জানিয়ে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীকে শোকবার্তা পাঠাই। এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে জনমত সৃষ্টি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

গত দশ বছরে পুরো দেশকে বদলে দেওয়ার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ার মতো ক্ষমতায় থাকতে আমরা কোনো এলিট শ্রেণি তৈরি করিনি। আমরা তৃণমূল পর্যায় থেকে সারাদেশের মানুষের উন্নয়ন করেছি, গোটা দেশকেই বদলে দিয়েছি। গোটা বিশ্বও এখন বাংলাদেশকে অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের ঝুঁকি থেকে বাংলাদেশ এখনও পুরোপুরি মুক্ত নয় উল্লেখ করে এ ব্যাপারে দেশবাসীর মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সরকার যথেষ্ট সজাগ ও সতর্ক রয়েছে। এটি এখন বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হলি আর্টিজানের পর থেকে আমরা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছি বলেই আমাদের দেশে কেউ সুযোগ নিতে পারছে না। কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ী প্যারোলে মুক্তি পেতে আবেদন করতে হয়। খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে কোনো আবেদন করা হয়নি। তাই প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

আগামী কাউন্সিল এবং দলের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, অবসর নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কে আসবেন, এটা দলই সিদ্ধান্ত নেবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ছাপা পত্রিকার সামনে প্রযুক্তি যে বাস্তবতা দাঁড় করিয়েছে সেটা সংশ্লিষ্টদের মানতেই হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি সারাবিশ্বের মানুষের জন্য নানা সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সারাবিশ্বে অনেক নামি-দামি পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পত্রিকা কেবল অনলাইন ভার্সনে চলে এসেছে। কাগজে ছাপা বন্ধ হয়ে গেছে তাদের, সোজা কথা অনলাইনে চলে এসেছে। এখনো অনেক চ্যানেল চাইছে। তথ্যমন্ত্রীর (ড. হাছান মাহমুদ) সঙ্গে কথা হচ্ছিল। বললাম যতো চাইছে, দিয়ে দিতে। কিছু না হোক, কিছু লোকেরতো চাকরি হবে, কর্মসংস্থান হবে। ওয়েজ বোর্ডের ব্যাপারে সরকারের যা করণীয়, তা সরকার করেছে। বাকিটা মালিকপক্ষের, সেখান থেকে সাংবাদিকরা যা আদায় করে নিতে পারেন, সেটা তাদের ব্যাপার।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে একাধিক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্পূর্ণ মানবিক কারণে মিয়ানমারে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি। মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং চুক্তিও হয়েছে যে তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে। জাতিসংঘের প্রতিনিধিদেরও স্পষ্ট করে বলেছি, যদি কিছু করতে চান মিয়ানমারের মাটিতে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তাসহ সবকিছু করুন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং মত্স্য ও পশুসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু উপস্থিত ছিলেন।