‘শিল্পী-প্রকাশক পারস্পরিক সমঝোতা থাকাটা সবচেয়ে জরুরি’ 

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:৪১

ডিজিটাল প্লাটফর্মে একটি অডিও কোম্পানির ৫ বছর অবধি টিকে থাকা এ সময়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সম্প্রতি ধ্রুব মিউজিক স্টেশন (ডিএমএস) তাদের সফল যাত্রার ৫ বছর পার করলো। এ সময়ের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি ও সমসাময়িক কাজ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার কণ্ঠশিল্পী ধ্রুব গুহ কথা বলেছেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। 

এই ৫ বছরের সফলতা কতটুকু বলে মনে করেন?

সৃজনশীল কাজে প্রত্যাশার কোনো শেষ নেই। তবে অল্প সময়ের ভেতরে ধ্রুব মিউজিক স্টেশন যে সিনিয়র-জুনিয়র সকল শিল্পীদের আস্থার জায়গা তৈরি করতে পেরেছে এটাই বড় কথা।

শিল্পীদের ভিউ বা ভাইরাল গানের দৌড় নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন। একজন প্রকাশক হিসেবে এই বিষয়টি কীভাবে দেখেন?

দেখুন, সকলেই চাইবেন তার গানটি সবার কাছে ছড়িয়ে যাক। এই চাওয়াতে দোষ দেখি না। তবে মান নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। এটা নিয়ে শিল্পী-প্রকাশক সকলেরই সচেতন থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা সবসময় বিষয়টি সচেতনভাবেই লক্ষ্য করেছি। আর আপনারা দেখবেন, আমরা এমন অনেক বরেণ্য শিল্পীদের গান প্রকাশ করেছি, যাদের গান অনেকদিন প্রকাশ বন্ধ ছিল। এগুলো কিন্তু ব্যবসার তাগিদে নয়, শিল্পের প্রতি নিজস্ব দায় থেকে করেছি। ধ্রুব মিউজিক স্টেশন নতুন শ্রোতা তৈরিতেও কাজ করেছে।

আপনারা নতুনদের নিয়ে একটি রিয়েলিটি শো করেছিলেন। তার আপডেট কী একটু জানাবেন?

সারাদেশ থেকে নতুন প্রতিভা খোঁজার এই প্রক্রিয়ায় আমরা দারুণ সব মেধাবী শিল্পীদের পেয়েছি। যারা অসাধারণ সুর করে এবং গান গায়। তাদের নিয়ে এরই ভেতরে বেশকিছু পরিকল্পনামাফিক কাজ এগিয়েছি। খুব শিগগিরই তাদের নিয়ে আত্মপ্রকাশ করবে ডিএমএস।

আপনি একজন শ্রোতাপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। ভিউয়ের দৌড়েও আপনার গান এগিয়ে। গানের প্রতি নিজের ভালোবাসা থেকেই কী এই প্রতিষ্ঠানটি করা। সেক্ষেত্রে পেশার চেয়েও শখের প্রেমটাই কী বেশি কি-না?

দেখুন, আমি বারবারই বলেছি, আমি পেশাদার শিল্পী নই। ভালোবেসে গান গাওয়ার চেষ্টা করি। ডিএমএস-এর মাধ্যমে গানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারছি, এটাও আমার বড় আনন্দের জায়গা। তবে প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি পেশাদার করেই গড়ে তুলেছি।

শিল্পীদের পুরনো গানের রয়্যালিটি নিয়ে একটা তর্ক, দ্বন্দ্ব অনেকদিনের। আপনার প্রতিষ্ঠান যদিও নতুন। তবু এ বিষয়টি কীভাবে দেখেন?

বিষয়টি আমি খুবই গুরুত্ব নিয়ে দেখতে চাই এবং ভাবতে চাই। আমার মতে, সকলের বসে ঠিক করা উচিত এবং এ নিয়ে অনেকগুলো সেমিনার হওয়া উচিত। কারণ এটা অনেকের সঙ্গে অনেকরকম কমিটমেন্টের বিষয়। আরেকটা কথা আমি সবসময় বলি, কোনো সৃষ্টিশীল কাজ কিন্তু টাকা দিয়ে কেনা যায় না। প্রথমে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। আর দ্বিতীয়ত, শিল্পীরা ব্যবসাটা ভালো বুঝবেন না, তবে গানের প্রতি আবেগ বা গানের মান নিয়ে শিল্পীরা ভালো বুঝবেন। তাই প্রকাশকদের প্রয়োজনীয়তা বা এই অনুভবটা শিল্পীদেরও থাকাটা জরুরি। আমি গত ৫ বছর ধরে সিনিয়র-জুনিয়র সকল শিল্পীর সঙ্গেই কাজ করেছি। কই! তাদের কারো সঙ্গেই ডিএমএস-এর তো কোনো সমস্যা হয়নি! তাই শিল্পী-প্রকাশক পারস্পরিক সমঝোতা থাকাটা সবচেয়ে জরুরি।

এখন অনেক প্রতিষ্ঠানই গানের পাশাপাশি বিভিন্ন কন্টেন্ট যেমন টিভি নাটক তৈরি করছে। গান থেকে ডিজিটাল রেভিনিউ আশানুরূপ না হওয়ার কারণেই কী এই প্রবণতা বাড়ছে?

এটা একটা ভুল ধারণা। এই প্রচলন অনেক আগে থেকেই ছিল। আগেও প্রকাশকরা নাটক কিনতেন। নাটকের ডিভিডি প্রকাশ হতো। আর গানের রেভিনিউ দিয়ে তো কখনোই একটা প্রতিষ্ঠান চালু রাখাও সম্ভব না। বিশেষ করে আমাদের মতো নতুন প্রতিষ্ঠানের জন্য আরো বেশি চ্যালেঞ্জের। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখার তাগিদেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে আমি আশাবাদী, বাংলা গান নিয়ে আমরা সকলেই একটি সমৃদ্ধির জায়গায় পৌঁছাতে পারবো।

ইত্তেফাক/কেকে