বাইডেন-পুতিনের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৫:৪১

এই লেখাটি যখন পাঠক পড়ছেন তখন ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে তুমুল যুদ্ধ চলছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশের পরপরই ইউক্রেনের তিন দিক থেকে প্রবেশ করেছে রাশিয়ার সেনারা, রাজধানী কিয়েভসহ পুরো ইউক্রেন কেঁপে উঠছে। প্রথম দিনের হিসাবে দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। পরিস্থিতিকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জাতিসংঘ সনদের ৫১ ধারার প্রয়োগ বলে অভিহিত করেছেন, যেখানে যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে রাশিয়া কর্তৃক স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত দনেস্ক ও লুহানস্কের দুই নেতা ডেনিস পুশলিন ও লেওনিড পাসেশনিক পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহীদের দমনে অগ্রসরমাণ ইউক্রেন বাহিনীর আক্রমণ থেকে নিরীহ মানুষদের প্রাণহানি ঠেকাতে রাশিয়ার সাহাঘ্য প্রার্থনা করেছেন। প্রেসিডেন্ট পুতিন বিনা শর্তে ইউক্রেন সরকারকে তাদের স্বাধীনতার দাবিকে মেনে নিতে এই হামলা চালিয়েছেন বলে পশ্চিমা দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, কেউ যদি ইউক্রেনের সহায়তায় এগিয়ে আসে, তাহলে কঠিন পরিণতি বরণ করতে হবে। ইউক্রেনের তরফ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়েছে যে বেলারুশের সেনাবাহিনীও রাশিয়ার সেনাদের সঙ্গে এই হামলায় অংশ নিয়েছে, তবে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেংকা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেছেন যে, রাশিয়া প্রয়োজন মনে করলে তারা রাশিয়ার সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা দেশগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেও চীনের দিক থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা হয়নি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, রাশিয়া আটঘাট বেঁধেই নেমেছে।

বিষয়টা অনেকটা যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার মতোই। আজকের যে ইউক্রেন সংকট, এর পেছনে ইউক্রেনের দিক থেকে কতটুকু দায় রয়েছে, সেটা নিয়ে খুব একটা চর্চা করার অবকাশ নেই। মূলত আজকের সংকটের সূচনা ২০১৪ সালে, যখন রাশিয়াপম্হি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগ করতে হয় এবং ফলে পশ্চিমা বিশ্বের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে একত্রিত করা হয়। পশ্চিমা দেশগুলো সেই সময় বড় ধরনের যুদ্ধকে এড়িয়ে গেলেও রাশিয়ার ওপর নানাভাবে অবরোধ আরোপ করে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ৩০ জাতির সামরিক জোট ন্যাটোকে পূর্বমুখী বিস্তৃত করে ইউক্রেনকে এর সদস্য করতে প্রয়াসী হয়। পশ্চিমা দেশগুলোর এহেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী সিদ্ধান্ত সম্ভবত আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এখানে উল্লেখ্য যে, ইউক্রেনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রুশ ভাষাভাষীর বসবাস এবং এদের একটা বড় সংখ্যা ইউক্রেন সরকার কর্তৃক বৈষম্যের শিকার হয়ে রাশিয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল। রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে এই জনগোষ্ঠী, যারা ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের সময় পূর্বাঞ্চলের দনেস্ক ও লুহানস্ক নামক দুটি এলাকা নিজেদের দখলে নিয়ে আসে। একই বছর মিনস্ক চুক্তির মধ্য দিয়ে ইউক্রেন সরকারের সঙ্গে এই দুটি অঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও থেমে থেমে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলে আসছিল এবং এ পর্যন্ত ১৪ হাজার লোক প্রাণ হারিয়েছে। রাশিয়া পশ্চিমা দেশগুলো কর্তৃক সম্ভাব্য চাপ আঁচ করতে পেরে বেশ আগে থেকেই তাদের সুরক্ষার কৌশল অবলম্বন করে এবং এর অংশ হিসেবে ইউক্রেন সরকার পূর্বাঞ্চলের এই দুটি অঞ্চলে রুশ ভাষাভাষীদের ওপর গণহত্যা সংগঠিত করছে—এই অভিযোগ এনে ৭ লাখ মানুষকে রুশ পাসপোর্ট প্রদান করে। এরই অংশ হিসেবে গত ২১ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট পুতিন এই দুটি অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের ভাষায় ‘শান্তিরক্ষী’ প্রেরণ করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এটিকে নির্বোধের মতো আচরণ বলে অভিযুক্ত করেছেন, স্বাধীন রাষ্ট্র ইউক্রেনে রাশিয়ার এ ধরনের হস্তক্ষেপকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও অভিহিত করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস রাশিয়ার এ ধরনের আচরণকে অযৌক্তিক বলে আখ্যায়িত করেছেন।

গত প্রায় এক মাস সময় ধরেই ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে রাশিয়ার সৈন্য সমাবেশকে যে কোনো সময় রাশিয়ার তরফ থেকে ইউক্রেনে আক্রমণ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। সীমান্েত দেড় লক্ষাধিক সৈন্য সমাবেশের পাশাপাশি বেলারুশে আরো ২০ হাজার সৈন্য মজুত রেখে রাশিয়ার দিক থেকেও এই সম্ভাবনাকে জানান দেওয়া হয়েছিল বেশ ঘটা করেই। এর আগে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে পুতিনের টেলিফোন সংলাপে রাশিয়ার তরফ থেকে ইউক্রেনে আক্রমণ না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাইডেন তাতে আশ্বস্ত হতে পারেননি। বারবার যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে অনেকটা দিনক্ষণ জানিয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে জানান দেওয়া হয়েছিল যে রাশিয়া নিশ্চিতভাবেই ইউক্রেনে আক্রমণ করতে যাচ্ছে। সেই যুক্তিতে ন্যাটোর ৫ হাজার সদস্যকে লিথুনিয়া, লাটভিয়া, অ্যাস্তোনিয়া ও পোল্যান্ডে প্রস্ত্তত রাখা হয়েছে এবং আরো ৪ হাজার মজুত করা রাখা হয়েছে বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া ও স্লোভাকিয়ায় প্রেরণের জন্য। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে জার্মানির নবনির্বাচিত চ্যান্সেলর ওলাফ শুলত্জ নিজে উদ্যোগী হয়ে ইউক্রেন ও রাশিয়া সফর করে দুই প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ার প্রতিশ্রুতি আদায় করেন। কিন্তু পরিস্থিতি বিশ্লেষণে রাশিয়ার জন্য পিছু হটে যাওয়া কতটুকু যৌক্তিক, সেটা নিয়ে খোদ পুতিনের মধ্যে দ্বিধা থেকে যায়। ইউক্রেনে সৈন্য সমাবেশের আগে থেকে এবং এর পরেও পুতিনের পক্ষ থেকে পশ্চিমা দেশগুলোকে ন্যাটোর সম্প্রসারণ পরিকল্পনা থেকে সরে আসার দাবি জানানো হয়। সংগত কারণেই ন্যাটোর পূর্বমুখী সম্প্রসারণ রাশিয়াকে চাপে রাখার কৌশল এবং রাশিয়ার দিক থেকে চুপ থাকার অর্থ হচ্ছে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নীরবে আত্মসমর্পণ করার শামিল। সুতরাং যা দাঁড়াল তা হচ্ছে ইউক্রেনের চাওয়া না চাওয়ার চেয়েও এখানে বড় বিষয় হচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলোর আধিপত্যবাদকে অক্ষুন্ন রাখতে চাওয়া এবং তাদের এই চাওয়ার বিপরীতে রাশিয়ার নিজের অবস্থানকে জানান দেওয়া।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির পক্ষ থেকে রাশিয়ার ওপর নির্দিষ্ট কিছু অবরোধ আরোপিত হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার বড় দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার ভিইবি ব্যাংক এবং সামরিক বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত ব্যাংক প্রোমসভায়াজ এবং কিছু ধনকুবের, যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সঙ্গে ব্যবসায় কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যুক্তরাজ্য রাশিয়ার পাঁচটি ব্যাংক এবং তিন জন ধনকুবেরের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন স্হগিত করেছে। জার্মানি দুটি প্রস্তাবিত গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প স্হগিত করেছে, যেখানে রাশিয়া ও ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর যৌথ বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার সব সম্পদ জব্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আরো বড় ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের বিষয়ে মত দিয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার বাইরেও সামনের দিনগুলো রাশিয়ার জন্য আরো কঠিন করে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ইউরোপীয় মিত্ররা পরিকল্পনা করছে, যার অংশ হিসেবে রাশিয়ার আর্থিক খাতে কীভাবে ধস নামানো যায় এবং আন্তর্জাতিক সুইফট পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে তারা যাতে তাদের মজুত মুদ্রা উত্তোলন না করতে পারে, সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এক ধাপ এগিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘রাশিয়ার অর্থনীতির এমন বেহাল অবস্থা করা হবে যে তারা পালানোর পথ খুঁজে পাবে না।’ তবে বিষয়টিকে যতটা সহজ মনে করা হচ্ছে এতটা সহজভাবে করার সুযোগ নেই। কেননা এই মুহূর্তে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অবরোধের পরিণতি পশ্চিমা দেশগুলো ছাড়াও গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকে নাজুক করে তুলবে।

ইতিমধ্যে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে কিছুটা প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম গত সাত বছরের মধ্যে সর্বাধিক বেড়ে গেছে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ব্যারেলপ্রতি ৯৬.৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যুদ্ধ শুরুর দিন অর্থাত্ ২৪ ফেব্রুয়ারি এক লাফে বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১০২ ডলারে। গ্যাসের দরও গত ২২ ফেব্রুয়ারি ৪ শতাংশ বেড়েছে। এই দর বৃদ্ধি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে ভোক্তা পর্যায়ে এবং বৈশ্বিক উত্পাদনব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে এর সমাধান আসতে পারে। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে এখানে বড় করে দেখা হচ্ছে। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের দনেস্ক এবং লুহানস্কে সৈন্য প্রেরণের আগে পুতিনের পক্ষ থেকে ন্যাটোর সম্প্রসারণ এবং ইউক্রেনকে এ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলা হয়েছিল যে, ঐতিহাসিক ও সামাজিকভাবে রাশিয়া ও ইউক্রেন অনেকটাই সম্পৃক্ত এবং ইউক্রেনে বহু রুশ ভাষাভাষীর অবস্থান। এখন এই পরিস্থিতিতে রাশিয়াকে পিছু হটাতে হলে ন্যাটোর সম্প্রসারণ ছাড়াও ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের ইসু্যগুলোও অনিবার্যভাবে আলোচনার টেবিলে চলে আসবে, কারণ রাশিয়া ইতিমধ্যে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে তাদের স্বীকৃতি দিয়ে অভিযানের একটা ক্ষেত্র তৈরি করেছে। তারা চাইবে, আলোচনার টেবিলে এই ক্ষেত্রের বৈধতা পেতে, যাতে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের দায় থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তাদের কিছু মিত্ররাষ্ট্রের ওপর রাশিয়া বেজায় চটেছে। বিশেষ করে বরিস জনসনের হুমকির জবাবে পুতিনের উত্তর হচ্ছে, ‘তারা আমাদের হুমকি দিয়ে বলেছে আমরা পালানোর পথ পাব না, তাদের কি ধারণা আমরা অলস বসে থাকব?’

প্রায় সাড়ে ৪ কোটি জনসংখ্যার দেশ ইউক্রেনকে ইউরোপের জন্য ‘ব্রেড বাস্কেট’ বলা হয়। ইউরোপের খাদ্যশস্য জোগানের একটা বড় অংশ আসে ইউক্রেন থেকে। এর বাইরেও মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার দেশগুলোর গম ও ভুট্টার ৪০ শতাংশের জোগান আসে যৌথভাবে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে। আর একটি বিষয় হচ্ছে সৌদি আরবের পর রাশিয়া দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিতে তারা শীর্ষে। ইউরোপের দেশগুলোর তেল ও গ্যাস-চাহিদার যথাক্রমে ২৫ এবং ৪০ শতাংশের জোগান আসে রাশিয়া থেকে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব রপ্তানি বন্ধ করে দেয় সেক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলো যে অর্থনৈতিক সংকট এবং খাদ্যসংকটের মধ্য দিয়ে যাবে, সেটা কোন পম্হায় মোকাবিলা করা হবে সেটাও নিশ্চিত নয়। সম্ভবত পরিস্থিতি যাতে আরো খারাপের দিকে না যায়, সেদিকে নজর দিয়ে ন্যাটোর মাধ্যমে পালটা আক্রমণের আশঙ্কা নাকচ করা হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের তরফ থেকে এটাও আশঙ্কা করা হয়েছিল যে, রাশিয়া এই মুহূর্তে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে তথাকথিত ‘শান্তিরক্ষীর’ ভূমিকা পালন করলেও তারা মূলত রাজধানী কিয়েভে আক্রমণ করতে চায়, ইতিমধ্যে এর প্রমাণও পাওয়া গেছে। জানা গেছে, কিয়েভের উপকণ্ঠে পৌঁছে গেছে রাশিয়ার সেনারা। এক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট পুতিনের গত বছর করা একটি বক্তব্য এখন সামনে চলে এসেছে, যেখানে পুতিন বলেছিলেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেন একই জাতি, আজকের আধুনিক ইউক্রেন কমিউনিস্ট আমলের রাশিয়া কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৯১ সালে সোভিয়েত পতনের মধ্য দিয়ে মূলত ঐতিহাসিক রাশিয়া বিভক্ত হয়ে যায়।’ এদিক দিয়ে চিন্তা করলে বাইডেনের ভবিষ্যদ্বাণীর যৌক্তিকতা রয়েছে। কিন্তু সেই সঙ্গে এটাও ভাবার যথেষ্ট সংগত কারণ রয়েছে যে রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের চিন্তা-পালটাচিন্তার মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা, এর নির্মম বলি হচ্ছে ইউক্রেন।

লেখক: অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন