মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে হামলা মামলায় গত ৪ দিনেও কেউ গ্রেফতার হয়নি। বরং আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে করে হামলার শিকার ঐ পরিবারটিসহ অন্য সংখ্যালঘুরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার চারিগ্রাম বাজারের পাশে আব্দুল মালেক নামে এক টিন ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে হারাপদ দাসের বাড়িতে এ হামলার ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে। হামলায় ঐ পরিবারের গৃহকর্তা হারাপদ দাস, কমলা রানী দাস, বিশ্বজিত দাস, সেতু দাস ও লিপি দাসকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে হারাপদ দাস আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।
এলাকাবাসী জানান, বাজারের টিন ব্যবসায়ী আব্দুল মালেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনেই রয়েছে গরীব হারাপদ দাসের দীর্ঘদিনের এই বসতভিটা। কিন্তু মাত্র তিন শতাংশ জমি হলেও বাজার এবং রাস্তার পাশে হওয়াতে এই জায়গাটির উপর নজর পড়ে আব্দুল মালেকের। মালেক দীর্ঘদিন ধরে নিরীহ এই পরিবারটিকে বাড়ি ছাড়তে বিভিন্ন উপায়ে চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু রাজি না হওয়াতে গত মঙ্গলবার মালেক তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এ বাড়িতে হামলা চালিয়ে নারী পুরুষদের মারধর করে এবং স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যায়। ভাঙচুর করা হয় আসবাবপত্র। এ ঘটনায় বাইমাইল গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে টিন ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক, চারিগ্রামের জিন্নত অলীর ছেলে মঞ্জু, মৃত তুষারের ছেলে মিলন ও মৃত রফিক দেওয়ানের ছেলে দেলোয়ার হোসেন গংদের নামে মামলা করার পর আরো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ঐ পরিবারটি।
চারিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজেদুল আলম স্বাধীন ও ইউপি মেম্বার আব্দুল হালিম জানান, উমেশ চন্দ্র মজুমদারের কাছ থেকে এই জায়গাটির পত্তনি নেন পিয়ার বক্স, নুরু বক্স ও রমিজ উদ্দিন। এদের কাছ থেকে গুরুপদ দাস আরএস রেকর্ডের মূলে মালিক হন। গুরুপদ দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে গেছেন। তিনি মারা যাওয়ার পর তার সন্তান হারাপদ দাসও ওই জমি ভোগদখল করছেন। এ অবস্থায় এই সম্পত্তির ওয়ারিশ দাবি করে আদালতে মামলা করেন আব্দুল হক নামে এক ব্যক্তি। আব্দুল হকের কাছ থেকে এই সম্পত্তি ক্রয় করেন আব্দুল মালেক। আদালত রায় দিয়েছে হারাপদ দাসের পক্ষে। অথচ আব্দুল মালেক আব্দুল হকের কাছ থেকে এই জমি কিনে সেটি তার নিজের দাবি করে দখল করতে চাইছেন যা সম্পূর্ণ অবৈধ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মফিজ বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
