মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বাবার ইচ্ছাপূরণে বর এলেন পালকিতে

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২২, ০৯:৫০

পালকিতে চড়ে মুখে রুমাল চেপে বর এলেন বিয়ে করতে কনের বাড়িতে। আসার সময় পালকির বেহারাদের মুখে সুরেলা ছন্দের গীত। এছাড়া পালকির সামনে-পেছনে বাহারি সাজে সজ্জিত লাঠিখেলা দেখাতে দেখাতে যাচ্ছেন কয়েক জন পেশাদার লাঠি খেলোয়াড়। রোমাঞ্চকর অনুভূতিতে হেঁটে চলছেন বরযাত্রীরা।

বাবার ইচ্ছা পূরণ করতে পালকি আর লাঠিখেলার আয়োজনে এই বিয়ের অনুষ্ঠান। বাঙালির ঐতিহ্যের স্মারক পালকিতে বরযাত্রা দেখতে বিয়েবাড়ি ও সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ভিড় করে উৎসুক জনতা। রীতিমতো ভিড় জমেছিল কনের বাড়িতে।

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা সদরের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বরযাত্রায় এমন দৃশ্য দেখা যায়। বর রাজু আহমেদের বাড়ি ঘিওর সদর ইউনিয়নের গোলাপনগর গ্রামে। পেশায় ব্যবসায়ী। তার পিতা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আতোয়ার রহমান। তার ইচ্ছাপূরণে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। উপজেলা সদরের (ব্র্যাক অফিস এলাকায়) বাসিন্দা মো. আবুল কাশেমের মেয়ে তাহমিনা ইসলাম সুমাইয়ার বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। চার বেহারার পালকিতে চড়ে বর আসেন বিয়েবাড়িতে।

পালকির সামনে-পেছনে বাহারি সাজে সজ্জিত লাঠিখেলা।

এমন আয়োজনের কথা জানিয়ে আতোয়ার রহমান বলেন, ‘বর-কনের বাড়ি স্বল্প দূরত্ব পাড়ি দিতে পালকিতে বরযাত্রার ব্যবস্থা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি। সেই সঙ্গে তেরশ্রী এলাকার ঐতিহ্য লাঠিখেলার আয়োজনও করা হয়। এটি আমার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল।’

বেহারাদের সর্দার মো. রজ্জব শেখ বলেন, ‘আধুনিকতার জোয়ারে পালকিতে বিয়ে এখন খুব একটা হয় না। তবে মাঝেমধ্যে ডাক পড়ে। আমরা অন্য পেশায় জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। সারা বছর নানা কাজে ব্যস্ত থাকলেও পালকির জন্য ডাক পড়লেই সঙ্গীরা ছুটে আসে। প্রতিটি বিয়ের বরযাত্রায় বখশিশসহ ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত রোজগার হয় বলে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/এমআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন