‘আমার বাবা, আইলো না', বিমানবন্দরে হাদিসুরের বাবা-মায়ের আকুতি

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২২, ১৫:২২

ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে রকেট হামলায় নিহত ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’র  থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের বৃদ্ধ বাবা-মা ও ভাইয়ের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা। 'ওরে আমার বাবা, আইলো না' চিৎকার করে কাঁদছে হাদিসুর রহমানের বৃদ্ধ বাবা-মা।

বুধবার (৯ মার্চ) দুপুরে এমভি বাংলার সমৃদ্ধির ২৮ জন ক্রুয়ের সঙ্গে থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের মরদেহ দেশে না আসায় তার বাবা আব্দুর রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এভাবেই বিলাপ করছিলেন।

বুধবার বেলা ১২টায় ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’র ২৮ নাবিকদের বহনকারী টার্কিস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৭২২ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে সেখানে যান হাদিসুরের বাবা-মা ও ভাই। 

ওই জাহাজটিতে মোট ২৯ জন নাবিক ছিলেন যার মধ্যে রাশিয়ার রকেট হামলায় নিহত হন হাদিসুর। এরপর সাগরের ওই বন্দর এলাকায় রাশিয়া মাইন পুঁতে রাখায় জাহাজটি বের করা যাচ্ছিল না। যুদ্ধক্ষেত্রে গোলাগুলির মধ্যে নাবিকদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটে চরম আতঙ্কে। এই অবস্থায় উদ্ধার পেতে সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিএসসি'র প্রতি আকুতি জানান আটকে পড়া নাবিকেরা। 

নানা প্রচেষ্টার পর প্রাণে বেঁচে ফেরা এই ২৮ নাবিক আজ দেশে ফিরলেন। তাদের আসার খবর পেয়ে বিমানবন্দরে যান হাদিসুরের পরিবারের সদস্যরাও। নাবিকরা যখন বিমান থেকে নেমে আসতে থাকেন তখন নিহত ছেলের জন্য আর্তনাদ করতে থাকেন হাদিসুরের বাবা-মা। বিমানবন্দরের ভিআইপি গেটের সামনে ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে বিলাপ করতে থাকেন তার বাবা-মা। 

এদিকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেশে ফেরা ২৮ নাবিক শারীরিক চেকআপ শেষে বাসায় ফেরেন। এর আগে মঙ্গলবার রাত পৌনে দুইটায় (বাংলাদেশ সময়) ফ্লাইটিতে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হন নাবিকরা। রবিবার বেলা ১১টার দিকে তারা ইউক্রেন সীমান্ত পেরিয়ে মালদোভা হয়ে রোমানিয়া পৌঁছান। এছাড়া ইউক্রেনে রাখা জাহাজটি থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) মালিকানাধীন বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজটি ডেনিশ কোম্পানি ডেল্টা করপোরেশনের অধীনে ভাড়ায় চলছিল। ভারতের মুম্বাই থেকে তুরস্ক হয়ে জাহাজটি গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে পৌঁছে। সেখান থেকে সিমেন্ট ক্লে নিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি ইতালির রেভেনা বন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল জাহাজটির। 

গত ২ মার্চ রাতে জাহাজটি রকেট হামলার শিকার হয়। এতে জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান নিহত হন। পরে জাহাজের আটকাপড়া ২৮ জন নাবিককে উদ্ধার করে নিরাপদ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর হাদিসুরের লাশ ও বেঁচে যাওয়া ২৮ নাবিককে একটি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগিতায় উদ্ধার করে মলদোভাতে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ৬ মার্চ তারা রোমানিয়ায় পৌঁছান। 

 

ইত্তেফাক/এসজেড