সিলেটে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হয়নি হাওর সংস্কার

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২২, ০২:১৫

সিলেটের বিভিন্ন স্থানে হাওর রক্ষা প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হলেও অনেক স্থানে কাজ শেষ হয়নি। কোনো কোনো বাঁধের কাজ শেষ করে সেখানে ঘাস লাগিয়ে পানি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ বাঁধে ঘাস লাগানো হয়নি। বাঁধের ওপরের মাটি পেটানো হয়নি। বন্ধ করা ক্লোজারে বাঁশ পোঁতা হয়নি। কোনো কোনোটিতে বাঁশ পোঁতার কাজ শুরু হয়েছে মাত্র।

এদিকে দ্রুত কাজ শেষ করতে ও প্রকল্পের মানসহ বিভিন্ন দিক মূল্যায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। অন্যদিকে এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ তৃতীয় কিস্তির টাকা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ছাড় না হওয়ায় প্রকল্পের কাজে বিঘ্ন হচ্ছে বলে জানা গেছে।

গত ৬ ও ৭ মার্চ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান, ইমরান হোসেন, রেজাউল করিমসহ কয়েক জন কর্মকর্তা ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ উপজেলার সোনামড়ল, হালির হাওর, শনির হাওর, চন্দ্র সোনার  থাল, গুরমার হাওর এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওর, তাহিরপুর উপজেলার মাতিয়ান হাওরসহ কয়েকটি দুর্গম হাওর পরিদর্শন করেন। তারা সংশ্লিষ্টদের কারিগরি পরামর্শ দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করতে নির্দেশনা দেন। কর্মকর্তারা জানান, এ পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৮৭ ভাগ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ইত্তেফাককে বলেন, যথাসাধ্য চেষ্টা করছি দ্রুত কাজ শেষ করতে। যাদের কাজে ত্রুটি থাকবে তাদের বিল আটকে দেওয়া হবে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাওর ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা নিজস্ব জরিপ শেষে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৬২ ভাগ কাজ শেষ হয়। তিনি দ্রুত মানসম্মতভাবে কাজ শেষ করার দাবি জানান।

সূত্রমতে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলীর তাগাদা সত্ত্বেও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) কাজের গতি বাড়ায়নি। নিজেদের মতো করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

সুনামগঞ্জে বরাদ্দ ৬৬ কোটি, পাওয়া গেছে ৪৮ কোটি

এ বছর সুনামগঞ্জের ৩৬টি হাওরের ১ হাজার ৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৫২০ কিলোমিটার বাঁধের কাজ হচ্ছে ৭২০টি পিআইসির মাধ্যমে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে বর্ষার শুরুতে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিজনিত বন্যা থেকে সুনামগঞ্জ জেলার বোরো ফসল রক্ষা পাবে। এবারও পিআইসি গঠনেও অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়। চার জেলার হাওরের বোরো ফসল রক্ষার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন শুরু হয়। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু এ জেলায় ২ লাখ ২২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান কৃষকের গোলায় উঠবে।

ইত্তেফাক/ ইআ