২৫ লাখের বেশি মানুষ ইউক্রেন ছেড়েছে

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২২, ০৭:৩০

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। গত কয়েক দিন বিরতির পর রাশিয়া আবারও হামলা করেছে। বিশেষ করে মরিউপোলসহ কয়েকটি নতুন শহরে। দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠকের পরও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে এরই মধ্যে ২৫ লাখের বেশি নাগরিক ইউক্রেন ছেড়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার বিদেশি অর্থাৎ অন্য দেশের নাগরিক রয়েছে। জাতিসংঘের অভিবাসী সংস্থা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংস্থাটি এক টুইট বার্তায় জানায়, জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন এমন মানুষের সংখ্যা প্রতি ঘণ্টায় বাড়ছে। তাছাড়া জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয়কের কার্যালয় এক আলাদা বার্তায় জানায়, এ ঘটনার পর ইউক্রেনে ১৮ লাখের বেশি নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক কমিশনার জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সাত মিলিয়ন অর্থাৎ ৭০ লাখ ইউক্রেনীয় বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার বলেছেন, দুই দিনে দেশটির বিভিন্ন নগরী থেকে প্রায় ১ লাখ লোক নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মারিউপোল নগরীর একটি মানবিক করিডোর লক্ষ্য করে চালানো হামলার ঘটনায় রাশিয়ার সৈন্যদের দায়ী করেছেন। জেলেনস্কি বলেন, তিনি অবরুদ্ধ এ বন্দর নগরীতে খাদ্যসামগ্রী, পানি ও ওষুধ বহনকারী ট্রাকের বহর পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘হানাদাররা অনুমিত সেই করিডোর লক্ষ্য করে ট্যাঙ্ক হামলা চালিয়েছে।’ তিনি তাদেরকে ‘সরাসরি সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করেন। ইউক্রেনের এ নেতা বলেন, গত দুই দিনে মানবিক করিডোর দিয়ে প্রায় ১ লাখ মানুষ ইউক্রেনের বিভিন্ন নগরী থেকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে সক্ষম হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক দিনেই প্রায় ৪০ হাজার লোক ইউক্রেন ছেড়ে চলে গেছেন।

মারিউপোলের একটি ম্যাটারনিটি হাসপাতাল ও কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আজভ সীর ওপর বুধবার চালানো বিমান হামলায় তিন জন নিহত হওয়ায় রাশিয়াকে দায়ী করেছে ইউক্রেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। এদিকে মস্কো বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের মাটি থেকে দেশটির নাগরিকদের চলে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে প্রতিদিন মানবিক করিডোর খোলার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে কিয়েভ আগেই রাশিয়া অভিমুখী অপসারণ রুট খোলার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে। আলজাজিরা।

ইত্তেফাক/এএইচপি