বুড়িমারী-চ্যাংড়াবান্ধা রেলপথ চালুর দাবি

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২২, ১৩:০০

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী রেল স্টেশন থেকে ভারতের কোচবিহার রাজ্যের মেখলিগঞ্জ চ্যাংড়াবান্ধা রেল স্টেশনের সঙ্গে মাত্র ৭৫০ মিটার রেলপথ পুনঃসংযোগের দাবি জানিয়েছেন বুড়িমারী স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, রেলপথটি চালু হলে বুড়িমারী স্থলবন্দরের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের দ্বার উন্মোচন হবে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় জোন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম-বুড়িমারী থেকে ভারতের মেখলিগঞ্জ-চ্যাংড়াবান্ধা রেলপথটি ব্রিটিশ আমল থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। এখনো দুই দিকে স্থাপিত রেলওয়ে স্থাপনাসমূহ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ১৯৬৫ সালে কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় রেলপথটি বন্ধ করে দেয় ভারত। এরপর থেকে বন্ধ হয়ে রয়েছে এই রেলপথ। ব্যবসায়ীদের মতে, এই রেলপথ চালু হলে ভারত, ভুটান, নেপালের সঙ্গে পরিবহন পথ কমে যাবে। ব্যাপক হারে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। সরকারের রাজস্ব আয় কয়েক গুণ বাড়বে।

রেলওয়ে বিভাগ জানায়, সময়ের প্রয়োজনে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম-বুড়িমারী থেকে ভারতের মেখলিগঞ্জ-চ্যাংড়াবান্ধা রেলপথটি অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছে। রেলপথটির প্রয়োজনীয় উন্নয়ন সাধন করে বুড়িমারী সেকশনে প্রয়োজনীয় ওয়াগন দিয়ে পণ্য পরিবহন করা হলে রেল বিভাগের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ভারত, ভুটান ও নেপালের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও পর্যটক বা যাত্রী পরিবহন করা হলে দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখা সম্ভব হবে। এদিকে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে ওপারের ভারতীয় চ্যাংড়াবান্ধা শুল্ক স্টেশনে রেলপথ সংযোগ নির্মাণের সম্ভাব্যতা নিয়ে স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সঙ্গে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সে সময় রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বুড়িমারী স্থলবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সংযোগের জন্য ভারতীয় চ্যাংড়াবান্ধা শুল্ক স্টেশনের শূন্যরেখা পর্যন্ত রেলপথ সরেজমিনে পরিদর্শনও করে গেছেন।

বুড়িমারী স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী সওদাগর ট্রেডের স্বত্বাধিকারী হুমায়ুন কবির সওদাগর বলেন, ‘এই রেলপথ চালু হলে সবার উপকার হবে। রেলের ওয়াগনে পণ্য পরিবহন করা হলে পরিবহন ব্যয় তিন ভাগের দুই ভাগ কমবে। মিটারগেজ উঠিয়ে রেলপথ ব্রডগেজ করে পণ্য পরিবহন করা হলে ক্রেতা-বিক্রেতা, আমদানি-রপ্তানিকারক সবাই লাভবান হবেন। বুড়িমারী স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি রুহুল আমীন বাবুল বলেন, ‘বুড়িমারী থেকে মাত্র সোয়া কিলোমিটার রেলপথ ভারতের চ্যাংড়াবান্ধার সঙ্গে সংযোগ দেওয়া হলে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ীসহ সবার কল্যাণ হবে।’ এ বিষয়ে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক শাহ সুফীনুর মোহাম্মদ বলেন, ‘এসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ৪৫ কিলোমিটার রেলপথ ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা থেকে হাতীবান্ধা উপজেলা পর্যন্ত ডুয়েলগেজ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে ধাপে ধাপে করার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে রেলপথ সম্প্রারণ করা হবে। রেলে পণ্য পরিবহন করা হলে নিঃসন্দেহে ভাড়া কম হবে। জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীদের উপকার হবে। রেলওয়ের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।’

 

ইত্তেফাক/ ইআ