দেশের তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র হচ্ছে পঞ্চগড়ের ধাক্কামারায়

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২২, ১৪:০০

পঞ্চগড়ে চায়ের তৃতীয় নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে পঞ্চগড়ে গড়ে উঠছে পঞ্চগড় টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। বাংলাদেশ স্মল টি গার্ডেন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম খোকনকে আহ্বায়ক ও পঞ্চগড়ের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান শেখকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১৫ সদস্যের পঞ্চগড় টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে ২৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অভিজ্ঞতা অর্জনে সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও মৌলভীবাজারে স্থাপিত নিলাম কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। পঞ্চগড় টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘চট্টগ্রামে ৯ জন এবং শ্রীমঙ্গলে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে নিলাম কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। সেখানে গিয়ে নিলাম কীভাবে হয় তা দেখেছি। টি টেস্টিং, চায়ের গ্রেডিং, ব্রোকার হাউজসহ চা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখেছি। টি বোর্ডের পরিচালনায় টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এসব কার্যক্রম পরিচালনা করবে। বর্তমানে লাইসেন্স করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলতি বছরের মে মাস থেকে এখানে নিলাম বাজার অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশা করছি।’

পঞ্চগড় জেলায় ২০০০ সাল থেকে চা উত্পাদন শুরু হলেও দীর্ঘ ২২ বছরে নিলাম বাজার স্থাপন না হওয়ায় চায়ের ন্যায্যমূল্য পাওয়া, চায়ের দাম ওঠানামা নিয়ে শঙ্কায় থাকেন চা-সংশ্লিষ্টরা। এই সমস্যা থেকে চা-চাষিদের মুক্তি দিতে চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর পঞ্চগড়ে নিলাম বাজার স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান বাংলাদেশ চা বোর্ডের তত্কালীন চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম। পঞ্চগড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট জানান, চায়ের তৃতীয় নিলাম বাজার হলে পঞ্চগড়ে চা-পাতার মূল্যে বৃদ্ধি পাবে। কর্মসংস্হান বাড়বে। চা-সংশ্লিষ্টদের দুইটি গ্রুপ চায়ের নিলাম বাজার চট্টগ্রাম ও মৌলভীবাজার পরিদর্শন করেছেন। এতে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। ইতিমধ্যে পঞ্চগড়ের ধাক্কামারায় নিলাম বাজারের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। টি টেস্টিংসহ বিভিন্ন ধরনের ল্যাব হবে। অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কার্যক্রম চলছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ড আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও নর্দান বাংলাদেশ প্রকল্পের পরিচালক ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন জানান, সমতল ভূমিতে চা চাষের জন্য পঞ্চগড় এবং এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। দিন দিন উত্তরাঞ্চলে চা চাষ ও উত্পাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি বছর চায়ের আবাদ বাড়ছে। ফলে প্রতি বছর চায়ের উত্পাদনও বাড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে চাষিদেরকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ভ্রাম্যমাণ ক্যামেলিয়া খোলা আকাশ স্কুল চালু হয়েছে। এছাড়া দুটি পাতা একটি কুঁড়ি অ্যাপস থেকে পাওয়া যাচ্ছে চায়ের যাবতীয় তথ্য। সেই সঙ্গে চা বোর্ডের পক্ষ থেকে সব রকমের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাট—এই পাঁচ জেলায় ১০টি নিবন্ধিত ও ১৭টি অনিবন্ধিত বড় চা-বাগান (২৫ একরের ওপরে) এবং ৭ হাজার ৩১০টি ক্ষুদ্র চা-বাগান (০ থেকে ২৫ একরের নিচে) রয়েছে। গত দুই দশক থেকে এ অঞ্চলে মোট ১০ হাজার ১৭০ দশমিক ৫৭ একর জমিতে চা চাষ হয়েছে। জেলায় আরো প্রায় ৪০ হাজার একর জমিতে চা চাষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

করোনাকালেও উত্তরাঞ্চলের চা-বাগান ও ক্ষুদ্র চা চাষ থেকে রেকর্ড পরিমাণ চা উত্পাদন হয়েছে। ২০২১ সালে চায়ের উত্পাদন অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়েছে। আলোচ্য বছরে ১৪ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন কেজি চা উত্পাদিত হয়েছে। তার আগের বছর অর্থাত্ ২০২০ সালে এখানে ১০ দশমিক ৩০ মিলিয়ন কেজি চা উত্পাদিত হয়েছিল। গত বছর এবং তার আগের বছরের তুলনায় এ বছর ৪ দশমিক ২৪ মিলিয়ন কেজি (৪১ শতাংশ) বেশি চা উত্পাদিত হয়েছে। 

ইত্তেফাক/ ইআ