চট্টগ্রামে গার্মেন্টসে আগুন আতংক, ৬০ জন আহত

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১২, ১৫:৫৩
চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (সিইপিজেড) একটি পোশাক কারখানায় আগুন আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামার সময় প্রায় ৬০ কর্মী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৪৮ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সকাল পৌনে ৯টার দিকে সিইপিজেডের ৪ নম্বর সড়কের 'সেকশন ৭ লিমিটেড' গার্মেন্টস কারখানায় মোটরের কয়েল জ্বলে যায়। এ সময় আগুনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে গার্মেন্টস কর্মীরা ছুটাছুটি শুরু করে। হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে বিপুলসংখ্যক কর্মী পদদলিত হয়ে আহত হয়। পরে তাদের কারখানায় এম্বুলেন্সে করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে অধিকাংশই মাথায়, মুখে ও হাতে আঘাত পেয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৪০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর ছেড়ে দেয়া হয়। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, 'সিইপিজেডের একটি কারখানায় মোটরের কয়েলে আগুন ধরে যায়। এ সময় আগুন আতঙ্কে কারখানার সিঁড়ি দিয়ে হুড়োহুড়ি করে নামার সময় বেশ কিছু শ্রমিক আহত হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।' চট্টগ্রামে প্রায় সাড়ে ৬শ গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার মধ্যে অধিকাংশই অগি্ননির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। কারখানাগুলো অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। নগরীর অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় অসংখ্য গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। অনেকেই আবাসিক ভবন ভাড়া নিয়ে গার্মেন্টস কারখানা চালু করেছে। ফলে এসব কারখানায় পর্যাপ্ত সিঁড়ি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। সরুগলি দিয়ে অনেক কারখানায় যেতে হয়। এতে অগি্নকা-ের ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আগুন নির্বাপণ দুরূহ হয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, গার্মেন্টস চলাকালীন সময়ে প্রধান ফটকসহ অন্য ফটকগুলোও তালাবদ্ধ থাকে। এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, 'গার্মেন্টসগুলোতে অগি্ননির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে। অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। চট্টগ্রামে গার্মেন্টস অত্যন্ত সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নাশকতার কোনো আশংকা আমরা করছি না।' চট্টগ্রামে ইপিজেড এলাকায় গার্মেন্টস রয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে একটি আলাদা গার্মেন্টস পল্লী গড়ে তোলার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে। ব্যবসায়ী নেতারা জানান, হাটহাজারী, সীতাকু- ও রাঙ্গুনিয়া এলাকায় গার্মেন্টস পল্লী গড়া যেতে পারে। এখানে প্রচুর জায়গা রয়েছে। চট্টগ্রামে শিল্পাঞ্চলের মধ্যে রয়েছে নাসিরাবাদ শিল্প এলাকা, কালুরঘাট শিল্প এলাকা, পতেঙ্গা শিল্প এলাকা, সাগরিকা শিল্প এলাকা ও সীতাকু- শিল্প এলাকা। কিন্তু এসব এলাকায় কোনো জায়গা খালি নেই। মীরসরাই এলাকায় শিল্প এলাকা গড়ার সরকার উদ্যোগ নিলেও তা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ঢাকায় এলিফ্যান্ট রোডে আগুন আতংকে আহত আমাদের স্টাফ রিপোর্টার জানান, রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে একটি গার্মেন্টস কারখানায় আগুন আতংকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে ৫ শ্রমিক আহত হয়েছে। আহত শ্রমিকদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, এলিফ্যান্ট রোডে নাসা গ্রুপের স্টার লাইট নীটওয়্যার লিমিটেডে এই আগুন আতংকের ঘটনা ঘটে। ভবনের ৬ষ্ঠ ফ্লোরে গার্মেন্টসের নীটওয়্যার শাখা। গতকাল বিকালে ঐ ফ্লোর থেকে সামান্য ধোঁয়া বের হলে শ্রমিকদের মধ্যে আগুন আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ঐ কারখানায় প্রায় ৫শ' শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। আগুন আতংকে শ্রমিকরা সিঁড়ি ও জরুরি সিঁড়ি দিয়ে বের হয়ে আসেন। এসময় শ্রমিকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও পদদলিত হয়ে ৫ জন আহত হন। আহতরা হলেন শাহিদা, ডলি, আকবর আলী, রুপা আক্তার ও শিল্পী।