সিরিয়ার বিদ্রোহীরা সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনী আবারও তুরস্কের সীমান্তের কাছে বিদ্রোহীদের ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণ করেছে। এদিকে, সিরিয়া সরকারের উপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার আওতা আরো বাড়িয়েছে জাপান।
প্রথমবারের মতো ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিরোধীদের একটি ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণের সময় ঐ হেলিকপ্টার ভূপাতিত করা হয়েছে বলে বিদ্রোহীরা দাবি করেছে। ইউটিউবে পোস্ট করা এক ভিডিও ফুটেজে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের চিত্কার করে বলতে শোনা গেছে, ‘আমরা এটিকে আঘাত করেছি। আল্লাহ মহান।’ এসময় একটি বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার মাটিতে পড়ে ছিল। এদিকে, সিরিয়ার বিরোধী শক্তি আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে। বিশেষভাবে, বিমান হামলা মোকাবেলার জন্য তারা এই সহায়তার আহবান জানিয়েছে।
তুরস্ক সীমান্তের কাছে মঙ্গলবার আরো একটি বিদ্রোহী ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণ করেছে সিরীয় যুদ্ধবিমান। আন্দোলনকর্মীরা জানিয়েছে, বিমানগুলোকে লক্ষ্য করে বিদ্রোহীরা বিমান বিধ্বংসী কামান থেকে গোলা নিক্ষেপ করলেও সেগুলো কামানের গোলার আওতার বাইরে দিয়ে উড়ে যায়। গত ১০ দিনে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি ঘাঁটি দখল করেছে। এর মাধ্যমে বিদ্রোহীরা রাজধানী দামেস্কের পূর্বে ও উত্তরপূর্বের কৃষিপ্রধান অঞ্চল ও শহরগুলোর ওপর নিজেদের দখল জোরদার করেছে। গত বিশ মাস ধরে চলা প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদবিরোধী আন্দোলন ও লড়াইয়ে এ পর্যন্ত ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা।
এদিকে জাপান জানিয়েছে, সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে তাদের নিষেধাজ্ঞার আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। দামেস্কর ওপর চাপ বৃদ্ধির লক্ষ্যে টোকিওতে এ সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় বৈঠকের আগে তারা এ পদক্ষেপ নিলো। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে টোকিও জাপানে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট ও সামরিক নেতাদের সম্পদ জব্দ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি তারা সিরিয়ার বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে মঙ্গলবার বলা হয়, জাপান সিরিয়ার বিরুদ্ধে তাদের নিষেধাজ্ঞার তালিকা বাড়িয়েছে। এক্ষেত্রে তারা ৩৬ ব্যক্তি ও ১৯ প্রতিষ্ঠানের নাম যুক্ত করেছে। নতুন করে যুক্ত এসব ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মায়ালেহ আদিব, প্রধানমন্ত্রী আল-হালকি ওয়ায়েল নাদের, ১২ জনের বেশি মন্ত্রী এবং সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি। এর ফলে সিরিয়ার ৫৯ ব্যক্তি ও ৩৫টি প্রতিষ্ঠান জাপানের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়লো। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাপানের এ ধরনের পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছে এবং এ থেকে সরে আসার দাবি জানিয়েছে। তবে জাপানের সরকারি কর্মকর্তারা জানান, তারা এ পদক্ষেপ থেকে সরে আসবেন না।
