পঙ্গুত্বকে হারিয়ে জীবন সংগ্রামে জয়ী হতে চায় শাহিনা

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১২, ২২:১০
পঙ্গুত্বকে হারিয়ে জীবন সংগ্রামে জয়ী হতে চায় শাহিনা খাতুন। তার দু’টি হাতই নেই। বাম হাতের কনুই পর্যন্ত থাকলেও ডান হাতের কোন অংশই নেই। বাম হাতের কনুই আর মুখ দিয়ে কলম আটকে এবারে এবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা দিচ্ছে সে। নাগেশ্বরী উপজেলার গাবতলা হিজবুল্লাপাড়ার বাসিন্দা দিনমজুর শাহাদত্ হোসেনের মেয়ে শাহিনা খাতুন ৫ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। শাহিনার পিতার এক সময় সামান্য চাষের জমি ছিল। তা দুধকুমর নদীর গর্ভে চলে গেছে অনেক আগে। দিনমজুরি করে সাত সদস্যের সংসার চালান তিনি কোনমতে। শাহিনার বয়সী গ্রামের সকল ছেলে-মেয়ে স্কুলে পড়তে যায়। তারও পড়ার সাধ জাগে। কিন্তু তার দু’টি হাত নেই। এ কারণে কোন স্কুল তাকে ভর্তি করতে চায় না। অনেক অনুরোধ-উপরোধ শেষে তাকে উপজেলার মমিনগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। শাহিনা ঐ মাদ্রাসা থেকে মমিনগঞ্জ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে এবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা দিচ্ছে। বাম হাতের কনুইয়ের উপরের অংশ ও মুখের সাহায্যে কলম ধরে লেখালেখি করে সে। সমাপনী পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে এমনটাই দেখা যায়। সে জানায় জন্ম থেকেই তার হাত নেই। বয়সের তুলনায় শারীরিক বাড়ন্তও অস্বাভাবিক। মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার পর বাড়িতে সে ছোট ভাইবোনদের সহযোগিতায় লেখালেখির অনুশীলন করতে শুরু করে। সেই থেকে শুরু। আর থামেনি। দিন-রাত পড়া ও লেখার অনুশীলন চালিয়ে যায়। শাহিনার ইচ্ছা অনেক পড়াশুনা করা। শারীরিক প্রতিবন্ধিত্ব নিয়েই একজন সুনাগরিক হওয়া। তার অদম্য পণ পঙ্গুত্বকে হারিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনবে সে। কিন্তু শাহিনার পিতা শাহাদত্ হোসেন পঙ্গু মেয়েকে নিয়ে অনেকটাই হতাশ। এমনিতে অভাবের সংসার। মেয়েকে কিভাবে পড়াবেন। তবু হাল ছাড়েননি তিনি। মেয়ের পড়ালেখার খরচ কোনমতে চালিয়ে নিচ্ছেন। জীবন-সংগ্রামে জয়ী শাহিনার গর্বিত হাসি যে তিনিও দেখতে চান।