রুয়েট ভিসি বিরোধী আন্দোলন অব্যাহত

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১২, ২২:৩৩
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সমন্বয়ে গঠিত ঐক্য পরিষদ। এছাড়া উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে টেলিফোন, বিদ্যুত্ ও পানির সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে গতকালও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ অবস্থান ধর্মঘট এবং বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঐক্য পরিষদ। সকাল ৮টার দিকে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে। বেলা ১১টা পর্যন্ত তারা বাসভবন ঘেরাও করে রাখে। পরে বাসার বিদ্যুত্ ও পানির সংযোগ দেয়া হলেও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে বাসার কর্মচারীরা জানিয়েছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভিসি অপসারণের দাবিতে রুয়েট অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। আর এই আন্দোলনে স্বয়ং প্রোভিসি ইন্ধনদাতা হিসেব কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার আন্দোলনকারীরা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে পরে জোরপূর্বক শেখ হাসিনা হলের প্রাধ্যক্ষ ও ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের সভাপতি এস এম আব্দুর রাজ্জাককে হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ পত্রে সই করিয়ে নিয়েছে । এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে দশ শিক্ষক-কর্মকর্তার পদত্যাগের ঘটনা ঘটলো। তাছাড়া আন্দোলনকারীরা ভিসি ড. সিরাজুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে এক ছাত্রের পরীক্ষার ফল জালিয়াতির যে অভিযোগ তুলেছেন তার সাথে মূলত রুয়েট প্রোভিসি জড়িত বলে কেউ কেউ অভিযোগ করেন। এর আগে ২০১১-১২ শিক্ষা বর্ষে প্রোভিসি তার এক কন্যাকে রুয়েটের সিএসই বিভাগে অসত্ উপায় অবলম্বন করে ভর্তি করান যা সে সময় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনায় পড়েন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার ফল জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ভিসি প্রফেসর ড. সিরাজুল করিম চৌধুরীর অপসারণ দাবিতে গত ১৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু পরিষদ এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আন্দোলনের ডাক দেয়। পরের দিন পৃথক সংবাদ সম্মেলনে রুয়েট শাখা ছাত্রলীগও আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে। এর আগে গত ৫ নভেম্বর রুয়েটের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে ভাংচুর চালায় আন্দোলনকারীরা। মূলত ১৩ নভেম্বর থেকেই লাগাতার আন্দোলনে রুয়েটে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। জানা যায়, গত ৫ নভেম্বর রুয়েট প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় ভাংচুরের পেছনের কারণ ছিল পরের দিন মঙ্গলবার রুয়েটের নির্মিতব্য গ্লাস এ্যান্ড সিরামিক ভবনের ৬ কোটি টাকার টেন্ডার ও ৮ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু হলের প্রায় কয়েক কোটি টাকার টেন্ডার বাণিজ্য। নিজস্ব ঠিকাদারকে টেন্ডারের কাজ পাইয়ে দিতেই মূলত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ওই ভাংচুর চালায়। এ ব্যাপারে রুয়েট ভিসি প্রফেসর ড. সিরাজুল করিম চৌধুরী বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে আন্দোলন করা হচ্ছে। তিনি প্রোভিসির সম্পর্কে বলেন, উনি আমার ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র ভিসি হওয়ার জন্য আমার বিরুদ্ধে লেগেছেন। এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য রুয়েট প্রোভিসি প্রফেসর ড. মর্ত্তুজা আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পরীক্ষার ফল জালিয়াতির বিষয়টি আমি জানতাম এবং তার প্রতিবাদ করেছি। ফল জালিয়াতির সাথে ভিসি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বলেও তিনি জানান। তিনি ভিসি বিরোধী আন্দোলনে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে বলেন, তিন বছর আগে বর্তমান ভিসি যখন ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান তখন আমি তাকে মৌন সমর্থন দিয়েছিলাম। এখন কেন আমি আন্দোলন করে ভিসি হতে যাব।