মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও অভিযানের কারণে ইয়াবা ও সোনার চোরা কারবারিরা পাচারের ধরন পাল্টেছে। এ অবস্থায় পাচারকারীরা চালান পাচার নির্বিঘ্ন করতে বেছে নিয়েছে তাদের পাকস্থলী। বাড়তি টাকার লোভে মৃত্যু ভয়কেও তোয়াক্কা করছে না তারা । আর এতে জড়িয়ে পড়েছে কয়েকশ নারী পুরুষ। এ তথ্য জানিয়েছে পাকস্থলীতে ইয়াবা ও সোনা পাচারের সময় গ্রেফতারকৃতরা। একাধিক চিকিত্সকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এভাবে (পাকস্থলীতে) ইয়াবা ও সোনা পাচারকারীদের বড় ধরনের দুর্ঘটনা এমনকি মৃত্যু ঝুঁকি রয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের সময় জুলহাস নামের এক ব্যক্তির পেটে পাওয়া গেছে ১১ প্যাকেট ইয়াবা। তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায়। এর আগে গত ৩ এপ্রিল সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে টেকনাফের বাসিন্দা রিতা নামে মৃত নারীর পেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল দেড় হাজার পিস ইয়াবা। এগুলো ৫৭টি প্যাকেট রাখা ছিল।
সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাকস্থলীতে ৪২শ ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয় কক্সবাজার থেকে আসা বিমান যাত্রী ইমাম হোসেন। ইয়াবা বের করার জন্য তাকে ভর্তি করা হয়েছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। প্রায় ১৮ ঘণ্টা চিকিত্সা শেষে পাকস্থলী থেকে বের করা হয় ইয়াবার চালান।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে ইমাম হোসেন জানিয়েছিল, পেটের ভেতর ইয়াবা লুকিয়ে যাতায়াত এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়ানো সহজ। বেশি টাকার লোভে পড়ে পাকস্থলীতে ইয়াবা বহন করছিলেন।
পেশায় দিনমজুর টেকনাফের বাসিন্দা ইমাম হোসেন । মাত্র ১৫ হাজার টাকার জন্য তিনি নিজেই ইয়াবার পোঁটলা বানিয়ে গিলে খেয়েছিলেন।
যেভাবে খাওয়া হয় ইয়াবার পোঁটলা :ইমাম হোসেন ৬টি সাগরকলার সঙ্গে এগুলো গিলে খান। যাতে বমি না হয়, সে জন্য ওষুধ খেয়েছিলেন তিনি। এভাবে ইয়াবা বড়ির ১০০টি প্যাকেট গিলে খাওয়ার পর তার খাদ্যনালিতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। গলায় ব্যথা নিয়েই সড়কপথে তিনি কক্সবাজার আসেন এবং সেখান থেকে বিমানে ওঠেন।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) সহকারী পরিচালক (উত্তর) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, আমরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পাকস্থলীতে ইয়াবা বহনের অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছি। এদের মধ্যে কয়েকজন নারীও রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের পাকস্থলী থেকে উদ্ধার করা হয় দুই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার ইয়াবা।
এ কর্মকর্তা বলেন, যাদের পাকস্থলী থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে তাদের প্রায় সবারই বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফে। তারা টেকনাফ থেকে ইয়াবা চালান বহন করে ঢাকায় পৌঁছে দেয়। দুই বছর ধরে তারা এ বিপজ্জনক পেশায় জড়িত। এ সময় তারা ২০ থেকে ৩০টি করে চালান ঢাকায় পৌঁছে দিয়েছে। তবে এর আগে বিভিন্ন পন্থায় ইয়াবার চালান এনেছে। কিন্তু সব পদ্ধতিও আইন -শৃঙ্খলা সদস্যরা জেনে যাওয়ায় তারা কৌশল পাল্টেছে। খুরশেদ আলম বলেন, পাকস্থলীতে ইয়াবা চালানের বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে চট্টগ্রামে। এক ব্যক্তি টেকনাফ থেকে পাকস্থলীতে করে ইয়াবা বহনের সময় চট্টগ্রামে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তার পেট থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৪শ ইয়াবা ট্যাবলেট।
