হাতিয়া উপজেলার সর্বদক্ষিণে নিঝুম দ্বীপের শিশুরা অযত্ন অবহেলা আর বৈষম্যে বেড়ে উঠছে । দ্বীপ জুড়ে দেখা যায়, শত শত শিশু যারা স্কুলের ধারে-কাছেও যায় না। দারিদ্র্য আর অপুষ্টি তাদেরকে গ্রাস করে চলেছে। এখানে শিশুদের বেড়ে উঠার সুযোগ নেই বললেই চলে। গোটা দ্বীপে চোখে পড়েনি কোন খেলার মাঠ বা বিনোদনমূলক স্থান। কোন আগন্তুক দেখলেই দল বেধে ভীড় জমায় তারা। শিশুদের ধারণা, এরা কোন ভিন্ন জগতের লোক। নবগঠিত নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নে কোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। যেনতেনভাবে চলছে ৫টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কাগজে কলমে যা রয়েছে বাস্তবে তার এক-তৃতীয়াংশও নেই। এছাড়া একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে যা এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে নামে মাত্র চলছে এ দ্বীপের শিক্ষা ব্যবস্থা।
অন্যদিকে নিঝুম দ্বীপে কোন সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র নেই। ফলে স্বাস্থ্য সেবার অবস্থা খুবই করুণ। দ্বীপের অধিকাংশ শিশু রোগা ও অপুষ্টির শিকার।
দ্বীপের অধিকাংশ লোকের পেশা নদী কিংবা সমুদ্রে মাছ ধরা। তাই অধিকাংশ শিশু পরিবারের বাড়তি আয়ের যোগান দিতে মাছ ধরার সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে। এছাড়া শিশুদের বিরাট অংশ বন থেকে লাকড়ি সংগ্রহের কাজ করে। দ্বীপ জুড়ে দেখা যায়, ভেড়া কিংবা মহিষের পাল নিয়ে শিশুরা ঘুরছে। কেউবা সমুদ্র উপকূলে ভেসে আসা মাছ কুড়ায়, মশারির জাল দিয়ে মাছ ধরে, কেউবা গরুর গোবর সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। এভাবে বেড়ে উঠছে নিঝুম দ্বীপের শিশুরা।
