প্রায় আড়াই দশক আগে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত হওয়া অসহায় নারী-পুরুষ ঢাকার কল্যাণপুরের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় গ্রহণ করে। দিনে দিনে বাড়তে থাকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা। এক পর্যায়ে এলাকাটি রাজধানীর অন্যতম জনাকীর্ণ বস্তি হিসেবে পরিগণিত হতে থাকে। অন্যদিকে পরিত্যক্ত ওই এলাকা থেকে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষদের বিতাড়নের চক্রান্তও শুরু হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রের সরাসরি ইন্ধনে ১৯৮৯ সালের ১৩ অক্টোবর কেরোসিন ও পেট্রোল ঢেলে এই বস্তিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সেই অগ্নিকান্ডে কল্যাণপুরের এই বস্তির কয়েক হাজার ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ভয়াবহ আগুনে বস্তির চারটি শিশু ও ৫জন বৃদ্ধার নির্মম মৃত্যু হয়। তখন থেকেই বাস্তুচ্যুত মানুষের এই আশ্রয়স্থলটি কল্যাণপুর পোড়াবস্তি হিসেবে পরিচিতিলাভ করে।
এই বস্তি উচ্ছেদে মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বলবত্ থাকা সত্ত্বেও গৃহায়ন ও গণপূত মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা জেলা প্রশাসকের পক্ষে বিভিন্ন সময় যৌথভাবে উচ্ছেদ নোটিস জারি করা হয়। এটা নিঃসন্দেহে উচ্চতর আদালতের নির্দেশনা অগ্রাহ্য করারই শামিল। এ অবস্থায় কল্যাণপুরের পরিত্যক্ত সম্পত্তির ওপর বস্তিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে উর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ইস্কান্দার আলী মোল্লা, সভাপতি, বস্তি পুনর্বাসন ঐক্য পরিষদ, কল্যাণপুর, ঢাকা ১২০৭।
