কবে দাঁড়াবো তাদের পাশে

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৩৮
১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম এবং বহু আকাঙ্ক্ষিত বিজয়ের ৪১ বছর পার হয়ে গেল। সংগ্রামে আদৌ কতটুকু ভালো আছেন তাঁরা? ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাস। হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানার রূপশংকর গ্রাম। শায়েস্তাগঞ্জ পাকিস্তানি ক্যাম্পের নিকটবর্তী ছিল মিরপুর ব্রিজ। শত্রুকে পরাহত করতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা ছিল মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। এই কৌশল মোতাবেক দেশপ্রেমিক গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় মুক্তিযোদ্ধারা ব্রিজটি ধ্বংস করে। এই ঘটনার জের ধরে একজন রাজাকার। শত্রুপক্ষের কাছে মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের সহযোগীদের সম্পর্কে বলে দেন। পাকিস্তানিদের দোসর রাজাকারের সহযোগিতা এবং প্ররোচনায় ১৯ জন গ্রামবাসীকে ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। তবে স্থানীয় ডাক্তারের পরামর্শে ১০ জনকে ছেড়ে দেয় তারা এবং ৯ জনকে চোখ-হাত-পা বেঁধে সারিবদ্ধভাবে গুলি করে। এই ৯ জনের মধ্যে ১ জন মরহুম জাহির আলী গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ফিরে আসতে পারেন এবং অত্যন্ত আহত অবস্থায় বেঁচে থেকে স্বাধীনতার পর মৃত্যুবরণ করেন। তাদের মধ্যে একজন নিখোঁজ ব্যক্তি হলেন শহীদ তমর উদ্দিন। বেঁচে রইলেন তমর উদ্দিনের মা শুকুর চান। কিন্তু কিভাবে বেঁচে ছিলেন শুকুর চান? স্বাধীনতার পর ভিটেটুকু ছাড়া আর কোনো সম্পদ ছিল না তার। যে পুত্র তার সহায় হতে পারতেন, তাকেও হারিয়েছেন তিনি। স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন পুত্র, কিন্তু এই দীর্ঘ ৪১ বছর শুকুর চান বেঁচে আছেন মানবেতর কষ্ট নিয়ে। মুক্তিযোদ্ধার পরিবার হিসাবে কোনো সাহায্য পাননি তিনি, আর্থিক দৈন্যে দিনাতিপাত করেছেন। তমর উদ্দিনের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত করা হয়নি। শুকুর চান বিবিও শহীদ মাতা হিসাবে পাননি কোনো ভাতা। বক্ষব্যাধি, ডায়বেটিস প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত এই নারী জীবনের শেষ প্রহর গুনছেন অবর্ণনীয় যন্ত্রণা নিয়ে। গত ২৫ নভেম্বর অ্যাডভোকেট কেয়া চৌধুরী তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আজ স্বাধীনতার ৪১ বছর পেরিয়ে, বহু কষ্টের পথ অতিক্রম করে জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে সংগ্রাম করছেন শুকুর চান বিবি।