ফিলিস্তিনে প্রেসিডেন্ট আব্বাসকে বীরোচিত সংবর্ধনা

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:০৬
জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের পর দেশে ফিরে বীরোচিত সংবর্ধনা পেয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। এরই মধ্যে ইসরাইল গাজায় গুলি চালিয়ে এক ফিলিস্তিনিকে হত্যা ও বেশ কয়েকজনকে আহত করার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে হামাস। এদিকে, পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি সমপ্রসারণের সিদ্ধান্তকে শান্তির জন্য ‘মারাত্মক আঘাত’ বলে সতর্ক করে দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের পর রবিবার পশ্চিম তীরে ফিরে বীরোচিত সংবর্ধনা পেয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। রামাল্লায় উল্লসিত সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন আমাদের একটি রাষ্ট্র আছে। একটি ঐতিহাসিক জয় অর্জন করেছে ফিলিস্তিনিরা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বৃহস্পতিবার পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পায় ফিলিস্তিন। হাজার হাজার পতাকা নিয়ে উল্লাসরত সমর্থকদের উদ্দেশে আব্বাস বলেন, ফিলিস্তিনের ‘পর্যবেক্ষক অঞ্চল’ থেকে ‘অ-সদস্য পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রে’ উন্নীত হওয়া প্রমাণ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ফিলিস্তিনিদের পাশে আছে। পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ ও গাজার হামাসের মধ্যে বিভক্তি ভুলে তিনি ফিলিস্তিনিদের ঐক্যের আহবান জানান। এর মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার সীমান্তের কাছে একটি বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী এক ফিলিস্তিনিকে ইসরাইলি বাহিনী হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ইসলামপন্থি দল হামাস। শুক্রবার গাজার দক্ষিণ রাফা এলাকায় বিক্ষোভের সময় ইসরাইলি বাহিনীর ছোড়া গুলিতে অন্তত ছয়জন আহত হয় বলে গাজার হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানিয়েছে। এদের মধ্যে ২১ বছর বয়সী এক তরুণ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে গাজার হামাস সরকার। এদিকে, কৌশলগতভাবে স্পর্শকাতর পূর্ব জেরুজালেমের কাছে ইসরাইলের বসতি সমপ্রসারণের সিদ্ধান্তকে শান্তির জন্য ‘মারাত্মক আঘাত’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিত বান কি মুন। তিনি বলেন, এর ফলে পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। প্রসঙ্গত, জাতিসংঘে ফিলিস্তিন পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাওয়ার পর ইসরাইল তিন হাজার নতুন বসতি স্থাপনের প্রতিশোধমূলক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।