মিসরে নতুন সংবিধানের ওপর গণভোট প্রত্যাখ্যান করেছে দেশের বিচারকরা। তাদের সিদ্ধান্তের পর সরকার ও সরকার বিরোধীদের বিরোধ আরো বাড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে। বিচারকরা জানিয়েছেন গণপরিষদের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করতে না দেয়ায় তারা আদালত বর্জন করবেন। এদিকে মিসরে বিতর্কিত নতুন সংবিধানের খসড়া প্রণয়নকারী প্যানেলের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে সম্ভাব্য এমন যে কোন ধরনের রায় ঘোষণা ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট মুরসির শত শত সমর্থক আদালত প্রাঙ্গণ ঘিরে রাখে। ইসলামপন্থি প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুরসির সমর্থকদের ‘চাপে’ মিসরের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আহূত গণভোট প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির বিচারকেরা। মিসরের ঐতিহ্য অনুযায়ী দেশটির বিচারকেরা গণভোটের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রবিবার সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালত নিজেদের কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিচারকদের সংগঠন ‘দ্য জাজেস ক্লাব’ গণভোট প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দেয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।
আগামী ১৫ ডিসেম্বর মিসরের নতুন খসড়া সংবিধানের ওপর গণভোটের ডাক দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট মুরসি। গণভোট প্রত্যাখ্যানের কথা জানিয়ে জাজেস ক্লাবের প্রধান আহমেদ আল জিন্দ বলেন, “আগামী ১৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় সংবিধানের ওপর গণভোট তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। যাকে ‘সাংবিধানিক ডিক্রি’ বলে বলা হচ্ছে তার প্রতিক্রিয়ায় এই প্রতিবাদ, এই ডিক্রি বাতিল না করা পর্যন্ত প্রতিবাদ চলবে,” বলেন তিনি। তবে ক্লাবের সিদ্ধান্ত সদস্যদের জন্য বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছেন বিবিসির কায়রো প্রতিনিধি। ওদিকে মিসরের উপরাষ্ট্রপতি মাহমুদ মেক্কি বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন বিচারকেরা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। আদালতের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির কারণে কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে আদালত। ফলে সাংবিধানিক পার্লামেন্টের বিষয়ে রুল জারি করাও স্থগিত হয়ে যায়। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালত রবিবারকে মিসরের বিচার বিভাগের ইতিহাসে সবচেয়ে “কালো দিন” বলে অভিহিত করেছে। আহূত গণভোটের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে মিসরের বিরোধীদলগুলো। জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার আগেই গণভোটের ডাক দিয়ে মুরসি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ করেছে ওই দলগুলো।
প্রস্তাবিত খসড়া সংবিধানে নাগরিকদের মৌলিক স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে বলে মনে করে বিরোধীদলগুলো।
