প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। এক বছরের মধ্যে শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে। গত রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে শান্তিচুক্তির ১৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস আয়োজিত এক সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে গওহর রিজভীর বক্তব্যের আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির চেয়ারম্যান সন্তু লারমা বলেন, চুক্তি যত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে ততই মঙ্গল।
পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ১৫ বছরে শান্তিচুক্তির কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে এমন প্রশ্ন করলে তার উত্তর ‘একটি গ্লাসের অর্ধেক পূর্ণ না অর্ধেক খালি’ এর মতো। কিছু বাস্তবায়ন হয়েছে আবার কিছু বাস্তবায়ন হয়নি। এই সময়ে চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া দুঃখজনক। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। যেটুকু বাস্তবায়ন হয়নি তা আগামী এক বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে। তিনি বলেন, অনেক আগে চুক্তিটি বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগেরবার আওয়ামী লীগ সরকার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যে অবস্থায় রেখে গিয়েছিল এবার ফিরে এসে সেটা একই জায়গায় পেয়েছে।
গওহর রিজভী বলেন, পার্বত্য ভূমি আইন সংশোধন দ্রুত করা হবে। চুক্তির বাস্তবায়নকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। এর ফলে অন্য সমস্যাগুলোও বাস্তবায়িত হবে।
সন্তু লারমা বলেন, ১৫ বছরেও শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়িদের মনে অনেক ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে। হতাশার মাঝেও তাদের বিশ্বাস বর্তমান সরকারের মেয়াদেই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে। তবে পাহাড়ে সেনা ক্যাম্প রেখে শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন হলেও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। তিনি বলেন, চুক্তির সময় শেখ হাসিনা আমাদের হাতে ‘নিষ্পাপ গোলাপ’ তুলে দেন। কিন্তু তার কয়েকদিনের মাথায় সশস্ত্র সেনা বাহিনী পাঠিয়ে ‘অস্ত্রের ভাষায়’ কথা বলেন। এসব কারণে সরকারের প্রতি অনাস্থা সৃষ্টি হয়।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ক্ষেত্রে ‘শান্তিচুক্তির পক্ষ’ আর ‘সরকার পক্ষ’ আলাদা কোনো পক্ষ নয়। দুই পক্ষই শাস্তির পক্ষে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত চুক্তির সময় এর বিরোধিতা করেছিল। এখনো প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে যাচ্ছে।
তথ্য কমিশনার অধ্যাপক সাদেকা হালিম সংলাপে মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবদুল মজিদ শাহ আকন্দ ও গবেষক অধ্যাপক মং সা নু চৌধুরী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, মেজর জেনারেল (অব.) আমিন আহমেদ চৌধুরী বীরবিক্রম, অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, ইউএনডিপি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন প্রিসনার।
